Speculation over ceding Manipur Land to Myanmar: ভারত-মায়ানমার সীমান্ত বিরোধ মেটাতে কেন্দ্র মণিপুরের কিছু অংশ মায়ানমারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই আবহে মণিপুরের প্রভাবশালী নাগরিক সংগঠন কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি (COCOMI) কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল, মণিপুরের এক ইঞ্চি জমিও মায়ানমারের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজ্যজুড়ে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

COCOMI-র দাবি, মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনওভাবেই খর্ব করা যাবে না। সংগঠনের বক্তব্য, রাজ্যের ঐতিহাসিক সীমানা পরিবর্তনের যে কোনও প্রচেষ্টা মণিপুরবাসী মেনে নেবেন না। এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ গড়ে তোলা হবে।
সংগঠনের আইপিআর (IPR) সাব-কমিটির আহ্বায়ক ফিজাম শ্যামচাঁদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক পত্রিকা দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারত সরকার মণিপুরের চান্দেল জেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১.৪ বর্গমাইল এলাকা মায়ানমারের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সীমান্ত স্তম্ভ ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বরের মধ্যবর্তী এই অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ আছে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে। সেই বিবাদের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জমি হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়ে নাকি আলোচনা চলছে।
COCOMI আরও অভিযোগ করেছে, বিদেশ মন্ত্রক গত ২৬ মে যে নথি প্রকাশ করেছে, তাতে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত চিহ্নিতকরণের জন্য তিন মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই নথিতে ভারতের পক্ষে কোনও সমপরিমাণ ভূখণ্ড ফেরত পাওয়ার বা সীমান্ত সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
বিবৃতিতে COCOMI স্পষ্ট জানিয়েছে, মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা তাদের কাছে 'রেড লাইন'। অর্থাৎ, এই প্রশ্নে কোনও আপস বা সমঝোতা তারা মেনে নেবে না। সংগঠনের মতে, সীমান্ত নির্ধারণের নামে যদি রাজ্যের একাংশও অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে তা শুধু মণিপুরের মানুষের আবেগেই আঘাত হানবে না, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকেও অস্থির করে তুলতে পারে।
{{/usCountry}}বিবৃতিতে COCOMI স্পষ্ট জানিয়েছে, মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা তাদের কাছে 'রেড লাইন'। অর্থাৎ, এই প্রশ্নে কোনও আপস বা সমঝোতা তারা মেনে নেবে না। সংগঠনের মতে, সীমান্ত নির্ধারণের নামে যদি রাজ্যের একাংশও অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে তা শুধু মণিপুরের মানুষের আবেগেই আঘাত হানবে না, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকেও অস্থির করে তুলতে পারে।
{{/usCountry}}COCOMI আরও দাবি করেছে, ভারত-মায়ানমার সীমান্তের একাধিক অংশ এখনও বিতর্কিত। বিশেষ করে মলচাম এলাকায় ৬৪ থেকে ৬৮ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের মধ্যবর্তী অঞ্চল, মোরে এলাকার ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভ এবং চোরো খুনৌ এলাকার ৮৮ থেকে ৯৫ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভকে তারা বিরোধপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংগঠনের প্রশ্ন, বর্তমানে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে যে সীমান্ত আলোচনা চলছে এবং মলচাম সেক্টরে সহায়ক সীমান্ত স্তম্ভ বসানোর কাজ এগোচ্ছে, তা কি মণিপুরের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েই করা হচ্ছে? এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছে COCOMI। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখনও কেন্দ্রীয় সরকার বা বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে সীমান্ত নির্ধারণ ও ভূখণ্ড হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তীব্র হওয়ায় মণিপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।