ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আকারে ছোট ব্রহ্মোস এবং অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলির উপর দুই দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

বর্তমানে ব্রহ্মোস বিশ্বের অন্যতম সফল সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থল, সমুদ্র, সাবমেরিন এবং যুদ্ধবিমান—সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা যায়। এর গতি শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ এবং এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
এবার যে নতুন সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্রহ্মোস-এনজি (নেক্সট জেনারেশন) বা ছোট আকারের ব্রহ্মোস। এই ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান ব্রহ্মোসের তুলনায় হালকা হবে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্মে এটি বহন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দ্রুত আঘাত হানার ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, হাইপারসনিক ব্রহ্মোস প্রকল্পকে ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণভাবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তারও বেশি গতিতে উড়তে পারে। এত বেশি গতি থাকায় এগুলিকে শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ভারতের কৌশলগত শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মোস প্রকল্প শুধু ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতীক নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার যাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিমধ্যেই ফিলিপাইন্সের মতো দেশে ব্রহ্মোস রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রতিরক্ষা মহলের ধারণা, ছোট ও হাইপারসনিক ব্রহ্মোসের উন্নয়ন সফল হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং শক্তিশালী আঘাত হানতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারেও ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে।
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মোস প্রকল্প শুধু ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতীক নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার যাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিমধ্যেই ফিলিপাইন্সের মতো দেশে ব্রহ্মোস রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রতিরক্ষা মহলের ধারণা, ছোট ও হাইপারসনিক ব্রহ্মোসের উন্নয়ন সফল হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং শক্তিশালী আঘাত হানতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারেও ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে।
{{/usCountry}}