INS Mahendragiri Missile Power: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পেল। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি অত্যাধুনিক রণতরী ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ তুলে দেওয়া হল ভারতীয় নৌসেনার হাতে। মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড দ্বারা নির্মিত এই রণতরীটি নীলগিরি-শ্রেণির বা প্রজেক্ট ১৭এ-এর ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ। এর সংযোজন ভারতীয় নৌসেনার রণকৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'প্রজেক্ট ১৭এ-র আওতায় তৈরি ফ্রিগেটগুলি হলো বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম, যা সামুদ্রিক ক্ষেত্রে বর্তমান ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ফ্রিগেটটি নৌ-নকশা, গোপনীয়তা, যুদ্ধক্ষমতা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অগ্রগতির প্রতিফলন এবং যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে আত্মনির্ভরতার এক প্রশংসনীয় প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
INS মহেন্দ্রগিরির অস্ত্রভাণ্ডার: ব্রহ্মস ও বারাক মিসাইল
আইএনএস মহেন্দ্রগিরি কেবল একটি সাধারণ যুদ্ধজাহাজ নয়, এটি আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তি। অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে দুর্ধর্ষ সব মিলাইব। এই যুদ্ধজাহাজটি আটটি দূরপাল্লার ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলে সজ্জিত। ব্রহ্মস মিসাইলের নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এছাড়া আকাশপথের হামলা মোকাবিলা করার জন্য এতে বসানো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম ‘বারাক’। শত্রুপক্ষের কোনও বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ প্রতিহত করতে বারাক মিসাইল সিস্টেম অত্যন্ত কার্যকর।
আরও পড়ুন: Pentagon: হাজার হাজার মার্কিন বাহিনীর তথ্য ফাঁস! ইরানি হ্যাকারদের কাণ্ডে হতবাক পেন্টাগন: Report
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: Pentagon: হাজার হাজার মার্কিন বাহিনীর তথ্য ফাঁস! ইরানি হ্যাকারদের কাণ্ডে হতবাক পেন্টাগন: Report
{{/usCountry}}শুধু মিসাইল নয়, সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ ধ্বংস করার জন্য এতে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এই বহুমুখী ক্ষমতার কারণে মহেন্দ্রগিরি যে কোনও ধরণের সামুদ্রিক যুদ্ধে একাই যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: Iran Threat to US: 'হার্ট অ্যাটাক হতে পারে!' ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে US-কে হুঁশিয়ারি ইরানের
ভারতের নৌ-শক্তির প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএনএস মহেন্দ্রগিরির অন্তর্ভুক্তি কেবল ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়নি, বরং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এটি সমুদ্রপথে নজরদারি চালানো এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে সক্ষম। ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই যুদ্ধজাহাজটি একটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।