স্কোরবোর্ড বলছে ভারত ০, ব্রাজিল ৪। কিন্তু ম্যাচের ছবিটা শুধুই একপেশে ছিল না। অন্তত এমনটাই মনে করছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চার গোলের জয় পেয়েও ভারতীয় দলের লড়াই, রক্ষণ এবং প্রতি আক্রমণের চেষ্টা প্রশংসা কুড়িয়েছে তাঁর কাছে। কলকাতার গ্যালারিতে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগও তাঁর নজর এড়ায়নি। অন্য দিকে বড় দলের বিরুদ্ধে কয়েকটি মুহূর্তের মনঃসংযোগের ভুলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের কোচ খালিদ জামিল।

ম্যাচের পরে আনচেলত্তি বলেন, কলকাতায় এসে ব্রাজিলের সমর্থকদের সামনে খেলা তাঁদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা। যাঁরা ব্রাজিলকে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য ভাল একটি রাত উপহার দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। সেই সঙ্গে ভারতীয় দলের প্রশংসাও করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতের রক্ষণ যথেষ্ট গোছানো ছিল। সুযোগ পেলেই প্রতি আক্রমণে উঠেছে তারা। তাই চার গোলের ব্যবধান দেখেই ম্যাচের লড়াইকে বিচার করা ঠিক হবে না।
ভারতের বিরুদ্ধে এবং তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে দলের তরুণ ফুটবলারদেরও দেখে নিয়েছেন আনচেলত্তি। আগামী নভেম্বরের ম্যাচগুলোতেও দলে খুব বেশি বদল আনার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। তবে আরও কয়েক জন তরুণকে সুযোগ দিয়ে তাঁদের পরীক্ষা করে নিতে চান ব্রাজিল কোচ। অর্থাৎ, কলকাতার ম্যাচটি শুধু ফলের জন্য নয়, নতুন ফুটবলারদের পরখ করার ক্ষেত্রেও কাজে দিয়েছে ব্রাজিলের।
ভারতের হার নিয়ে অবশ্য খালিদের বিশ্লেষণ অনেকটাই অন্য রকম। তাঁর মতে, ভাল দলের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখা যেমন জরুরি, তেমনই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট ভুলও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকের গোল হজমের কথাও আলাদা করে বলেছেন খালিদ। তাঁর মতে, ৯০ মিনিটই একই মাত্রার সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। অনেকটা সময় পরিকল্পনা মেনে খেলার পরও আচমকা একটি গোল পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে সেই ভুলের মূল্য আরও বেশি।
{{/usCountry}}ম্যাচের শেষ দিকের গোল হজমের কথাও আলাদা করে বলেছেন খালিদ। তাঁর মতে, ৯০ মিনিটই একই মাত্রার সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। অনেকটা সময় পরিকল্পনা মেনে খেলার পরও আচমকা একটি গোল পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে সেই ভুলের মূল্য আরও বেশি।
{{/usCountry}}তবে গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহকে নিয়ে কোনও সমালোচনা করতে রাজি নন ভারতের কোচ। তাঁর মতে, গুরপ্রীত দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক এবং দুটো ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে তাঁর দক্ষতা বিচার করা যায় না। পরের ম্যাচেই তিনি আরও ভাল ভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন খালিদ।
তবু প্রশ্ন থাকছে। প্রথম গোলটি ২৮ মিনিটে। এস্তেভাওয়ের শট গুরপ্রীতের হাতের নীচ দিয়ে জালে পৌঁছে যায়। বিরতির ঠিক আগে আরও একটি গোলের সুযোগ আসে ব্রাজিলের সামনে। ডান দিক থেকে এস্তেভাওয়ের বল পেয়ে পেদ্রো প্রায় একা হয়ে গিয়েছিলেন। সেই শটও আটকানো যেত বলে মনে করছেন অনেকে।
বিরতির পরে গুরপ্রীতকে তুলে নেওয়া হলেও গোলরক্ষক বাছাই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক বিশাল কাইথ এই ম্যাচে ছিলেন না, আর প্রভসুখন গিল ছিলেন বেঞ্চে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুরপ্রীতকে প্রথম একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চার গোলের ব্যবধান ব্রাজিলের শক্তির ছবি পরিষ্কার করে দিয়েছে। কিন্তু আনচেলত্তির প্রশংসা বলছে, ভারত একেবারে বিনা লড়াইয়ে হারেনি। এখন খালিদের দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেই লড়াইয়ের মানটাকে ৯০ মিনিট ধরে রাখা।