BRICS Declaration Details: ব্রিকস দেশগুলি একতরফা ট্যারিফ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। শনিবার সর্বসম্মতভাবে প্রকাশিত হয়েছে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র-২০২৬’। ৪৫ পাতার এই ঘোষণাপত্রে রয়েছে ১৪০টি পয়েন্ট। ব্রিকসের বক্তব্য, একতরফা বাণিজ্য পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষতি করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল। তাই এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।
বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি

ব্রিকস বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বা WTO-র বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ফের চালুর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও ন্যায্য হওয়া দরকার। IMF এবং বিশ্বব্যাঙ্কেও উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। তাদের কণ্ঠস্বর এবং অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে ঘোষণাপত্রে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। কোনও কারণ বা উদ্দেশ্য দেখিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ব্রিকস। সন্ত্রাসের অর্থ জোগান, সীমান্তপারের সন্ত্রাস এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনও ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।
পাহেলগাঁও হামলার নিন্দা
ঘোষণাপত্রে ২২ এপ্রিল ২০২৫-এর পাহেলগাঁও হামলারও কড়া নিন্দা করা হয়েছে। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বহু মানুষ আহত হন। এই হামলার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে ব্রিকস।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে সমর্থন
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বা UNSC-তে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও ফের সমর্থন করেছে ব্রিকস। ভারতকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে মত জানিয়েছে চিন ও রাশিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, UNSC সংস্কার আর পিছিয়ে দেওয়া যায় না।
প্যালেস্তাইন প্রশ্নে বড় বার্তা
{{/usCountry}}রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বা UNSC-তে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও ফের সমর্থন করেছে ব্রিকস। ভারতকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে মত জানিয়েছে চিন ও রাশিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, UNSC সংস্কার আর পিছিয়ে দেওয়া যায় না।
প্যালেস্তাইন প্রশ্নে বড় বার্তা
{{/usCountry}}প্যালেস্তাইন ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান রয়েছে ঘোষণাপত্রে। প্যালেস্তাইনের আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিতে যথাযথ প্রতিনিধিত্বের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্ক এবং IMF-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও কথা উঠেছে। এই অবস্থান ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
মধ্য এশিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার প্রস্তাব
নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে মধ্য এশিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও রয়েছে। এই প্রস্তাবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরানকে রাজি করাতে রাতভর আলোচনা
তবে যৌথ ঘোষণাপত্রে সবাইকে একমত করা সহজ ছিল না। বিশেষ করে ইরানকে রাজি করাতে দীর্ঘ আলোচনা চলে। সূত্রের দাবি, শনিবার ভোর চারটে পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত ইরান ঘোষণাপত্রে সম্মতি দেয়। জানা যাচ্ছে, ফিলিস্তিন নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘোষণাপত্রে যুক্ত করার শর্ত ছিল ইরানের। পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও ছিল তার মধ্যে।
এই প্রস্তাবকে সমর্থন করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। ফলে শেষ পর্যন্ত ইরান ও UAE-র সমর্থন নিশ্চিত হয়। ভারতও সব পক্ষকে এক জায়গায় আনতে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নেয়। নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র তাই শুধু অর্থনীতি বা বাণিজ্যের বার্তা নয়। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, UNSC সংস্কার, ফিলিস্তিন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।