ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে আন্তঃদেশীয় লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক-সমর্থিত ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর দিকে জোর দিতে পারে ভারত। তবে পুরো ব্রিকস জোটকে নিয়ে একটি অভিন্ন অর্থপ্রদান ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবে এখনই সায় দেওয়ার সম্ভাবনা কম নয়াদিল্লির। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে এমনই দাবি করা হয়েছে।

এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই দায়িত্বের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সদস্য দেশগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা বা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহারের পক্ষে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এর ফলে সদস্য দেশগুলি নিজেদের জাতীয় মুদ্রার পাশাপাশি ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে সরাসরি বাণিজ্যিক লেনদেনের সুযোগ পেতে পারে।
দিল্লিতে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে সদস্য দেশগুলিকে এক ছাতার নীচে এনে একটি অভিন্ন পেমেন্ট সেটেলমেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়ে এই সম্মেলনে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা কম। ভারতের অবস্থানও এই জায়গায় যথেষ্ট সতর্ক।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনে বর্তমানে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাঙ্ক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলির প্রভাবাধীন এই ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই গত কয়েক বছর ধরে ব্রিকসের মধ্যে নিজেদের পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার আলোচনা চলছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার একাধিক ব্যাঙ্ক সুইফট ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ব্রিকসের ভিতরে তাই নিজেদের মধ্যে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের পরিকাঠামো তৈরি করার আলোচনা গতি পায়। চিন, রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ জোটের সদস্য দেশগুলি এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজও করেছে।
{{/usCountry}}২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার একাধিক ব্যাঙ্ক সুইফট ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ব্রিকসের ভিতরে তাই নিজেদের মধ্যে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের পরিকাঠামো তৈরি করার আলোচনা গতি পায়। চিন, রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ জোটের সদস্য দেশগুলি এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজও করেছে।
{{/usCountry}}তবে ভারত একটি বিষয় স্পষ্ট রাখতে চাইছে বলে জানা গিয়েছে। দিল্লি এমন কোনও উদ্যোগে যেতে চাইছে না, যা ব্রিকসকে সরাসরি সুইফটের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরবে। কারণ, একটি অভিন্ন ব্রিকস পেমেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরি হলে আন্তর্জাতিক মহলে জোটটিকে স্পষ্টতই মার্কিন ডলার এবং পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একটি গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হতে পারে। এই সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লির মধ্যে যথেষ্ট সতর্কতা রয়েছে।
তার বদলে ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে। অর্থাৎ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক-সমর্থিত ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে সরাসরি লেনদেনের ব্যবস্থা তৈরি করা হতে পারে। এতে তৃতীয় কোনও আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতা কমবে, একইসঙ্গে ডলারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির বার্তাও যাবে না।
ব্রিকসের সম্প্রসারণের পর জোটের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের লক্ষ্য একদিকে সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনকে আরও সহজ করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় অযথা সংঘাতের ছবি তৈরি না করা। ফলে আসন্ন সম্মেলনে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হলেও, একক ব্রিকস পেমেন্ট নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে ভারত আপাতত সংযত পথেই হাঁটতে পারে।