প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিকস নৈশভোজে ছিল ভারতের স্বাদের বিশেষ আয়োজন। ছিল নানা নিরামিষ পদ। ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও নজর কাড়ল একটি বিষয়। নৈশভোজে ছিলেন না চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মোদীর নৈশভোজে অনুপস্থিত জিনপিং
শনিবার সন্ধ্যায় ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস নেতাদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নৈশভোজে যোগ দেন। ব্রিকসের অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে দেখা গেল না শি জিনপিংকে। চিনের প্রেসিডেন্ট কেন নৈশভোজে আসেননি, তা স্পষ্ট নয়। একটি সূত্রের দাবি, তিনি বিশ্রাম নিতে হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন। একইভাবে আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মহম্মদও নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন না।
ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষ পরিবেশনা
নৈশভোজের সঙ্গে ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাম ছিল ‘নবরস: দ্য ইউনিভার্স অফ শেয়ার্ড ইমোশন্স’। ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয় এই অনুষ্ঠানে। ভারতীয় ঐতিহ্য, অনুভূতি এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। নৈশভোজেও ছিল ভারতের নানা প্রান্তের খাবারের ছোঁয়া।
শুরুতেই খাঁটি ভারতীয় স্বাদ
স্টার্টারে ছিল খণ্ডভি মিলেফয়। বেসনের তৈরি স্টিমড খণ্ডভি পরিবেশন করা হয় বিশেষ সাজে। এর সঙ্গে ছিল সর্ষে, নারকেল এবং কারিপাতার তড়কা। ছিল জাফরানি আম। ছিল মাইক্রোগ্রিন্স। সঙ্গে ছিল ইয়োগার্ট ড্রেসিং। আরও একটি আকর্ষণ ছিল খুম্ব গালৌটি। মাশরুমের কাবাব তাওয়ায় হালকা গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়। এর সঙ্গে ছিল মিন্ট পার্লস এবং শীরমাল রুটি।
মেন কোর্সে উত্তর থেকে দক্ষিণের স্বাদ
{{/usCountry}}স্টার্টারে ছিল খণ্ডভি মিলেফয়। বেসনের তৈরি স্টিমড খণ্ডভি পরিবেশন করা হয় বিশেষ সাজে। এর সঙ্গে ছিল সর্ষে, নারকেল এবং কারিপাতার তড়কা। ছিল জাফরানি আম। ছিল মাইক্রোগ্রিন্স। সঙ্গে ছিল ইয়োগার্ট ড্রেসিং। আরও একটি আকর্ষণ ছিল খুম্ব গালৌটি। মাশরুমের কাবাব তাওয়ায় হালকা গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়। এর সঙ্গে ছিল মিন্ট পার্লস এবং শীরমাল রুটি।
মেন কোর্সে উত্তর থেকে দক্ষিণের স্বাদ
{{/usCountry}}মেন কোর্সেও ছিল বৈচিত্র্য। ছিল পনির লাবাবদার। ছিল হিমালয়ের গুচ্ছি মাশরুম। সঙ্গে ছিল শতমূলী। ‘গুচ্ছি মারমিক’ পদটি তৈরি করা হয়েছিল জাফরান, কিশমিশ এবং মামরা বাদাম দিয়ে। এছাড়া ছিল ক্যারট বিন পোরিয়াল। ছিল অড়হর ডাল। দক্ষিণ ভারতীয় ধাঁচের হালকা স্যুপ ‘ঢক্কালি বেলে সারু’-ও রাখা হয়েছিল মেনুতে। সঙ্গে ছিল মিভেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।
মিষ্টিতে পুরনো দিল্লির ছোঁয়া
ডেজার্টেও ছিল বিশেষ চমক। পরিবেশন করা হয় ‘ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উইথ জিলাপি’। মৌসুমি ফল এবং হালকা হুইপড ক্রিমের সঙ্গে ছিল মচমচে জিলাপি। ছিল ফিরনিও। অর্থাৎ পুরো নৈশভোজেই তুলে ধরা হয় ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি।
তবে আলোচনায় খাবার নয়, জিনপিং
মোদীর এই বিশেষ নৈশভোজে ভারতের খাবার ও সংস্কৃতি ছিল মূল আকর্ষণ। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল অন্য জায়গায়। কারণ, ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা শি জিনপিং সেখানে ছিলেন না। কেন তিনি নৈশভোজ এড়িয়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর অনুপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত এই সন্ধ্যার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।