BRICS Latest Update: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে এবার বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত। সব বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করতে চাইছে নয়াদিল্লি। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাত নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই একটি বিষয়ই যৌথ বিবৃতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে।

সূত্রের খবর, ব্রিকসকে কোনওভাবেই আমেরিকা বা পশ্চিমা দেশগুলির বিরুদ্ধে একটি মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে চায় না ভারত, এবং বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলির কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা। ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সতর্ক। কারণ, বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মঞ্চ থেকে সরাসরি আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও নিন্দা প্রস্তাব আসুক, তা চায় না নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ভারতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই অন্য সদস্য দেশগুলিকে এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে খুব মেপে শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করছে ভারত। লক্ষ্য একটাই। কোনও একটি দেশের অবস্থান যেন পুরো ব্রিকসের অবস্থান হিসেবে সামনে না আসে। কিন্তু এখানেই সমস্যা আরও বড় হতে পারে।
জানা যাচ্ছে, বৈঠকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার প্রসঙ্গ তুলতে পারে ইরান। একইসঙ্গে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বক্তব্য রাখার দাবি উঠতে পারে। ইরানের এই অবস্থান ব্রিকসের মধ্যে নতুন করে মতভেদ তৈরি করতে পারে। ইরান আবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলে। তেহরানের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতি ব্রিকসের আলোচনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, চিন এবং রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ ইরানের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে। ফলে ভারতের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। নয়াদিল্লিকে একদিকে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের কথাও মাথায় রাখতে হবে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, চিন এবং রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ ইরানের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে। ফলে ভারতের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। নয়াদিল্লিকে একদিকে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের কথাও মাথায় রাখতে হবে।
{{/usCountry}}এই মতবিরোধের কারণে যৌথ বিবৃতি শেষ পর্যন্ত আটকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ব্রিকসের চেয়ার হিসেবে ভারতকে একটি আলাদা সারাংশ প্রকাশ করতে হতে পারে। অতীতেও ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতই ভারতের একমাত্র চিন্তার বিষয় নয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। সেটি হল ডলারের আধিপত্য কমানোর আলোচনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ব্রিকস দেশগুলিকে সতর্ক করেছেন। তাঁর বার্তা, ডলারকে দুর্বল করার মতো কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। কিন্তু ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ক্রমেই বাড়ছে। একইসঙ্গে ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলনে এই বিষয়ে কোনও নতুন উদ্যোগ বা প্রস্তাব সামনে আসতে পারে। আর সেটিও আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে ভারতের সামনে এখন কঠিন ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা। একদিকে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা। অন্যদিকে আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কও সামলে চলা। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং ডলার-নির্ভরতা কমানোর প্রশ্ন—দুটি বিষয়ই ভারতের কূটনীতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর থাকবে, ভারত শেষ পর্যন্ত কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ভাষায় ব্রিকসের যৌথ বিবৃতি তৈরি করতে পারে। আর সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতভেদ কতটা সামাল দিতে পারে, সেটাই হবে এই সম্মেলনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য বা ব্যর্থতার মাপকাঠি।