পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন ব্রিটেনের রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ। রচডেলের কুখ্যাত শিশু যৌন নির্যাতন চক্রের প্রধান শাবির আহমেদকে পাকিস্তান ফেরত না নিলে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি বাণিজ্য শুল্ক চাপানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি নাগরিকদের নিজেদের দেশে ফেরত নেওয়া সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন না করলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো উচিত। সোমবার ইংল্যান্ডের কেন্টে দলের এক সাংবাদিক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ফারাজ।
কেন পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি?

রচডেল কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি শাবির আহমেদ। ২০১২ সালে একাধিক ধর্ষণ ও যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। নির্যাতিতাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সি নাবালিকারাও ছিল। আদালত তাঁকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ১৯ বছরের সাজা শেষ হওয়ার আগেই চলতি বছরের ২ জুলাই জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। প্রায় ১৪ বছর কারাবাসে কাটিয়েছেন শাবির।
ব্রিটিশ নাগরিকত্বও এক সময়ে ছিল তাঁর। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৬ সালে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। এর পর তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ শুরু হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া আইনি বাধার মুখে পড়ে। কারণ, ১৯৭১ সালের ব্রিটিশ অভিবাসন আইনের একটি ধারা অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের আগে ব্রিটেনে আসা এবং সেখানে নির্দিষ্ট সময় বসবাস করা কিছু কমনওয়েলথ নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। শাবির সেই আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়ছেন।
কী বললেন ফারাজ?
ফারাজের বক্তব্য, পাকিস্তানকে শাবিরকে ফিরিয়ে নিতেই হবে। তা না হলে ব্রিটেনে পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। লন্ডনে পাকিস্তানি নাগরিকদের সম্পত্তির উপর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পাকিস্তানের বিমান সংস্থাগুলিকে ব্রিটেনের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়া এবং পণ্য ও পরিষেবার উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
{{/usCountry}}ফারাজের বক্তব্য, পাকিস্তানকে শাবিরকে ফিরিয়ে নিতেই হবে। তা না হলে ব্রিটেনে পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। লন্ডনে পাকিস্তানি নাগরিকদের সম্পত্তির উপর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পাকিস্তানের বিমান সংস্থাগুলিকে ব্রিটেনের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়া এবং পণ্য ও পরিষেবার উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
{{/usCountry}}তবে এগুলি রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে কার্যকর করার প্রস্তাব। ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান নীতি হিসাবে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি ঘোষণা করা হয়নি। ফারাজের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য, অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করা।
ব্রিটেনে অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক
শুধু শাবিরের ঘটনা নয়, ব্রিটেনে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। ফারাজ জানিয়েছেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছর পর্যন্ত নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে জমে থাকা প্রায় ৯০ হাজার আশ্রয়ের আবেদনের নিষ্পত্তি এবং বেআইনি ভাবে দেশে প্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কথাও বলেছেন তিনি।
তবে এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলি। তাদের আশঙ্কা, কঠোর বহিষ্কার নীতির ফলে এমন দেশেও মানুষকে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যেখানে তাঁদের নির্যাতন বা মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
অন্য দিকে, শাবিরকে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি করতে ব্রিটিশ সরকারও অভিবাসন আইন বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আইন বদলালেই যে তাঁকে পাকিস্তানে পাঠানো সম্ভব হবে, তা নয়। ইসলামাবাদের সম্মতিও প্রয়োজন। ফলে শাবিরকে ঘিরে ব্রিটেন-পাকিস্তান টানাপড়েন কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।