অসমের শ্রীভূমি জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার রুখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারকে কেন্দ্র করে বারবার উত্তেজনা এবং স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বৈঠক বলে জানা গিয়েছে। অবৈধ পাচার বন্ধ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়েছে বিএসএফ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের শ্রীভূমি বালিয়া ক্যাম্পের কমান্ড্যান্ট এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এসএসপি লীনা ডোলে। বৈঠকে বরাক উপত্যকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার পাশাপাশি বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
বিএসএফের কমান্ড্যান্ট বৈঠকে জানান, গরু পাচার সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলির একটি হল এই অবৈধ কারবারে কিছু ভারতীয় নাগরিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ। স্থানীয়দের একাংশ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষে অবৈধ ভাবে গরু সীমান্ত পারাপার আটকানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএসএফের বক্তব্য, পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্তের দুর্বল অংশগুলিকে কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তে থাকা কাঁটাতারের বেড়ার কয়েকটি অংশের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, যে কাঁটাতারের বেড়া সাধারণত প্রায় আট বছর কার্যকর থাকার কথা, তার বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ বছর পুরনো। ফলে বিভিন্ন জায়গায় বেড়ায় ফাঁক বা ক্ষত তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ, পাচারকারীরা ওই ফাঁকগুলিকে কাজে লাগিয়ে গরু বাংলাদেশে পাচার করছে। সীমান্তের এই দুর্বল অংশগুলি চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বেড়ার প্রয়োজনীয় মেরামতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
{{/usCountry}}অভিযোগ, পাচারকারীরা ওই ফাঁকগুলিকে কাজে লাগিয়ে গরু বাংলাদেশে পাচার করছে। সীমান্তের এই দুর্বল অংশগুলি চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বেড়ার প্রয়োজনীয় মেরামতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
{{/usCountry}}এদিকে, গরু পাচারে অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বৈঠকে সামনে আসে। বিএসএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি বা BGB-এর তরফে গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন আট জন ভারতীয় নাগরিকের একটি তালিকা তাদের দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা ঘিরেও তদন্ত ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএসএফের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার বা অন্য কোনও অবৈধ কার্যকলাপের বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশ অথবা বিএসএফকে জানাতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে বাহিনী।
বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও উদ্বেগও শোনা হয়। বরাক উপত্যকায় গরু পাচারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিএসএফের মতে, শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ালেই সীমান্তপথে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। সীমান্তের আশপাশে কারা সন্দেহজনক ভাবে চলাফেরা করছে, কোথা দিয়ে গরু পাচারের চেষ্টা হচ্ছে কিংবা কারা এই কারবারে যুক্ত—এই সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছলে অভিযান আরও কার্যকর হবে।
ফলে শ্রীভূমির বৈঠক থেকে একদিকে যেমন স্থানীয়দের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সীমান্তের পরিকাঠামোগত দুর্বলতা এবং পাচার চক্রে স্থানীয় নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগ নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএসএফ। এখন সীমান্তে নজরদারি, কাঁটাতারের বেড়ার সংস্কার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গরু পাচার কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেটাই দেখার।