তীব্র বিতর্কের মুখে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ সফর বাতিল হল ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)-এর ডিরেক্টর বিবেক বানজলের। ২৫ ফেব্রুয়ারির তাঁর প্রয়াগরাজ সফরের কথা ছিল। তার আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রয়াগরাজের ডিজিএম-এর তরফে এই সংক্রান্ত একটি প্রোটোকল জারি করা হয়। আর তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনায় সরব হন নেটিজেনরা। যে বিএসএনলের শেষ ত্রৈমাসিকে ১,৩০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে ইন্ডিয়া টুডে'র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিএসএনএলের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
মিনিট-টু-মিনিট প্রোটোকল

ডিজিএম তরফে জারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিএসএনএল-এর ডিরেক্টরের সফরের সময়সূচী নিয়ে মিনিট-টু-মিনিট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তাঁর এই সফরের জন্য ৫০ জন কর্মকর্তার একটি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যবহারের জন্য সাবান, তেল থেকে শুরু করে অন্তর্বাস পর্যন্ত সমস্ত দায়িত্ব বন্টন করা হয়। সঙ্গমে স্নানের জন্য তোয়ালে, আয়না, চিরুনি এবং অন্তর্বাসের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব এক আধিকারিককে দেওয়া হয়েছিল। ত্রিবেণী সঙ্গম এবং মন্দিরগুলিতে ভ্রমণের সময় বিবেক বানজলের স্নানের সরঞ্জাম, জলখাবার এবং এসকর্ট পরিষেবার ব্যবস্থা করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর জন্য কোন ধরনের ড্রাই ফ্রুটস, ফল এবং সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পানীয় জল থাকবে তার তালিকাও দেওয়া হয়েছিল। বিবেক এবং তাঁর পরিবারের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত উন্নত মানের এসইউভি গাড়ির ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছিল।
সমালোচনা
এই নির্দেশিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় উঠে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরের জন্য সরকারি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বেশ কয়েকজন নেটিজেন এই ব্যবস্থাকে 'রাজকীয় প্রোটোকল' বলে অভিহিত করেছেন। বিষয়টি বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নজরে এলে শোরগোল পড়ে যায়। শেষমেশ বিএসএনএল ডিরেক্টরের সফর বাতিল করা হয়। এই প্রসঙ্গে বিএসএনএল-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা আশীষ গুপ্ত বলেন, প্রোটোকলে কাকে কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না। বিএসএনএল ডিরেক্টরের পরিকল্পিত সফর বাতিল করা হয়েছে। তবে, তিনি এই ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্কের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।