...
...
Next Story

অলিম্পিকে হকিতে ভারতের শেষ সোনার পদক উধাও, প্রাক্তন অধিনায়কের বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতি

প্রাক্তন ভারতীয় হকি অধিনায়ক এম এম সোমাইয়ার বেঙ্গালুরুর বাড়ি থেকে চুরি হয়ে গেল ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে জেতা সোনার পদক। ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমস এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে পাওয়া আরও তিনটি আন্তর্জাতিক পদকও চুরি গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা।

Published on: Nov 5, 2026, 09:11:43 IST
Advertisement

বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগেই দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীরা। আর বাড়ি থেকে নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়নার পাশাপাশি চুরি করে নিয়ে গেল ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ! প্রাক্তন ভারতীয় হকি অধিনায়ক এম এম সোমাইয়ার বেঙ্গালুরুর বাড়ি থেকে চুরি হয়ে গেল ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে জেতা সোনার পদক। শুধু তাই নয়, ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমস এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে পাওয়া আরও তিনটি আন্তর্জাতিক পদকও চুরি গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশের ক্রীড়ামহলে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পদকগুলি উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

অলিম্পিকে হকিতে ভারতের শেষ সোনার পদক উধাও, প্রাক্তন অধিনায়কের বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতি
অলিম্পিকে হকিতে ভারতের শেষ সোনার পদক উধাও, প্রাক্তন অধিনায়কের বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতি

ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর নিউ থিপ্পাসান্দ্রা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৫ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের আদি বাড়ি কর্নাটকের কোডাগুতে গিয়েছিলেন ৬৭ বছরের সোমাইয়া। সেই সুযোগেই ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাত ২টা ৩৪ মিনিট নাগাদ ওই দু'জন বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে নীল রঙের জামা এবং অন্যজনকে লাল রঙের জামা পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছে।

পরদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ এক প্রতিবেশী বাড়ির দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি সোমাইয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর বেঙ্গালুরুতে ফিরে এসে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন প্রাক্তন হকি তারকা। তাতেই চুরির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইন্দিরানগর থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

চুরি যাওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের হয়ে পাওয়া সোনার পদক। পাশাপাশি ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসের একটি রুপোর পদক, ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসের একটি ব্রোঞ্জ পদক এবং ১৯৮২ সালের আমস্টারডামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে পাওয়া আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক খোয়া গিয়েছে। এছাড়া চুরি হয়েছে ১০ গ্রাম ওজনের সোনার বালা, ৮ গ্রাম ওজনের সোনার মুদ্রা, ১৪৪ গ্রাম ওজনের দুটি রুপোর কাপ, ছ'টি রুপোর চামচ, ৮০ গ্রাম ওজনের রুপোর পাত্র এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা। খোয়া যাওয়া ক্রীড়া পদকগুলির মূল্য বাদ দিয়ে বাকি সামগ্রীর আনুমানিক দাম ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা বলে পুলিশের অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে চিঠি লিখে তদন্তে হস্তক্ষেপের আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া সমস্ত পদক ও সামগ্রী উদ্ধারের আর্জি জানিয়েছেন প্রাক্তন অধিনায়ক।

উল্লেখ্য, এম এম সোমাইয়া তিনবার অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮০ সালের মস্কো, ১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ১৯৮৮ সালের সিওল অলিম্পিকে খেলেছেন তিনি। সিওল অলিম্পিকে ভারতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন। ভারতীয় হকিতে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি।

এদিকে ইন্দিরানগর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩১(৪) এবং ৩০৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কবে উদ্ধার হবে ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসের এই অমূল্য স্মারক?

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks