মাঝ আকাশে বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরেছিলেন পাইলট। বার বার সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছিলেন বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে। বিমানের ডানায় জমছিল বরফ। তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠছিল গোটা বিমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও উচ্চতায় ওঠার অনুমতিও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নীচের দিকে নেমে এল বিমান। শেষ মুহূর্তে পাইলটের মুখে শোনা গেল, 'আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে চলেছি।' তার পরেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আমেরিকার ফ্লোরিডায় একটি ব্যক্তিগত বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল ৯ জনের। বিমানটি রাস্তায় আছড়ে পড়ার পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গোলায় পরিণত হয় সেটি।

রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকরস এলাকায়। বিমানটির নাম লিয়ারজেট ৬০। আমেরিকার টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের নর্থ এলিউথেরা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেটি। বিমানটিতে মোট ন'জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার পরিবহণ সচিব শন ডাফি। তবে মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিপদের ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই
আমেরিকার বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ডিং থেকে দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। সেই সময় পাইলট জানান, বিমানে বরফ জমছে। পাশাপাশি মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনিও অনুভূত হচ্ছে। প্রায় ৭০০ ফুট পর্যন্ত বিমানটি ওঠানামা করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ২ হাজার ফুট উপরে ওঠার অনুমতি চান তিনি।
কিন্তু আবহাওয়া আরও খারাপ হয়ে যায়। বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট গতিতে নীচে নামছিল বিমানটি। শেষ পর্যন্ত সেই গতি ৩০ হাজার ফুটও ছাড়িয়ে যায় বলে উড়ানের তথ্য এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের রেকর্ডিং থেকে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}কিন্তু আবহাওয়া আরও খারাপ হয়ে যায়। বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট গতিতে নীচে নামছিল বিমানটি। শেষ পর্যন্ত সেই গতি ৩০ হাজার ফুটও ছাড়িয়ে যায় বলে উড়ানের তথ্য এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের রেকর্ডিং থেকে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}সেই সময় পাইলটের কণ্ঠে শোনা যায়, ''মেডে, মেডে! আমরা মিনিটে ১০ হাজার ফুট গতিতে নীচে নামছি।'' কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জানান, বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার পরেই বলেন, ''আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে চলেছি।'' বিমানের এক মহিলা কর্মীর কণ্ঠেও শেষ মুহূর্তে আতঙ্ক ধরা পড়ে। তিনি বলেন, তাঁদের হাতে আর সময় নেই।
বাড়ির পাশেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ
বিমানটি শেষ মুহূর্তে ডান দিকে তীব্র বাঁক নেয়। তার পরেই আবাসিক এলাকার একটি রাস্তার কাছে আছড়ে পড়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে রাস্তার একাংশে বড় গর্ত তৈরি হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিমানের ধ্বংসাবশেষে। চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কয়েকটি গাড়ির ক্যামেরায় দুর্ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওর সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার আশপাশের একটি মোবাইল হোম এলাকায় প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কেন এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিমানটির বরফ জমা, ঝড়বৃষ্টি এবং তীব্র ঝাঁকুনির সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সাহায্য করতে বিশেষ দল পাঠাচ্ছে আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তাদের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।