Argentina vs Cabo Verde FIFA World Cup 2026: 'জিতল' কাবো ভার্দে, মেসির আর্জেন্টিনা পৌঁছাল ফুটবল বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে
Argentina vs Cabo Verde FIFA World Cup 2026: ফুটবল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ১৬’ বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে মায়ামিতে কাবো ভার্দে হারল না, বরং জিতে গেল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মরচে ধরা পারফরম্যান্সের মধ্যেই মহাকাব্য রচনা করলেন ভোজিনহারা।
Argentina vs Cabo Verde FIFA World Cup 2026: জিতল আর্জেন্টিনা, 'জিতল' কাবো ভার্দে
ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে আর্জেন্টিনা বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচের ট্যাগলাইন নিঃসন্দেহে এটাই। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য লড়াই করল ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র। ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের নক-আউট পর্বে ওঠার পরে মায়ামিতে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করে ৩-২ গোলে হেরে গেল (ফুটবলের ভাষায় হারল, আসলে তো জিতল) আর্জেন্টিনার কাছে। দু'বার পিছিয়ে পড়ল। দু'বার সমতায় ফিরল। শেষপর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে হেরে যেতে এল।
এটা আসলে কাবো ভার্দের জয়
তবে সেটা আসলে হার নয়, এটা আসলে কাবো ভার্দের জয়। শুধু নিজেরা 'জিতল' না, জিতিয়ে দিয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার স্বপ্ন দেখা বিশ্বের প্রতিটি দেশকে। ভোজিনহারা জিতিয়ে দিয়ে গেলেন দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করা প্রত্যেক মানুষকে, প্রবল পরাক্রমীর বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া প্রত্যেক মানুষকে। মায়ামির প্রতিটি রাস্তা, বিশ্বের প্রতিটি রাস্তা কোনওদিন ভুলবে না ভোজিনহা (আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আটটি সেভ করেন), সিডনি কাবরালদের সেই লড়াই।
গ্রুপের একটি ম্যাচেও হারেনি কাবো ভার্দে
অথচ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগে ভোজিনহা তো বটেই, কাবো ভার্দে দেশটার নাম কতজন জানতেন, সেটাই হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে। সেই দেশটাই স্পেন, উরুগুয়েদের গ্রুপ থেকে একটাও ম্যাচ না হেরে নক-আউটের টিকিট ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু নক-আউটের প্রবল ম্যাচেই আর্জেন্টিনার মুখে পড়তে হবে শুনেই সম্ভবত ভোজিনহাদের ভবিষ্যৎ লিখে ফেলা হয়েছিল।
মেসির দুর্দান্ত গোল, ভোজিনহার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো
মায়ামিতে শুরুটাও সেভাবেই করেছিলেন মেসিরা। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ফুটবলের রাজপুত্র। কিন্তু সেখানেই হত্যেদম হয়ে যায়নি কাবো ভার্দে। দাঁতে দাঁত চেপে ডিফেন্স করে যেতে থাকে। প্রাচীর হয়ে ওঠেন ভোজিনহা। সঙ্গে বিপক্ষকে ছোবল দেওয়ারও চেষ্টা চলতে থাকে। সেই রেশ ধরে ৫৯ মিনিটে কাবো ভার্দেকে সমতায় ফেরান ডেরোয় ডুয়ারটে। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ গোলে।
অতিরিক্ত সময়ের নাটক
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই বুলেট শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্টিনেস। তখন মনে হয়েছিল যে কাবো ভার্দে আর পারবে না। কিন্তু ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র তো কারও কিছু মনে হওয়ার ভর করে বিশ্বকাপে খেলছিল না। আর সেই বিশ্বাস থেকেই অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের একেবারে শেষলগ্নে অবিশ্বাস্য গোল করে কাবো ভার্দেকে সমতায় ফেরান কাবরাল। যে গোলটা এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্ভবত সেরা গোল হয়ে থাকল।
আরও পড়ুন: FIFA WC Supercomputer Prediction: সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী: বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কোন দল?
অমর হয়ে থাকল কাবো ভার্দের মহাকাব্য
কিন্তু আট মিনিট পরেই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে কাবো ভার্দে। অনেক চেষ্টা করেও যে গোলটা আর পরিশোধ করতে পারেনি। তাতে কী? কাবো ভার্দে তো ফুটবল বিশ্বকে জিতে নিয়েছে, কাবো ভার্দে জিতে নিয়েছে মন, কাবো ভার্দে জন্ম দিয়েছে মহাকাব্যের। যে মহাকাব্য কখনও কখনও জয়ীদের উল্লাসের থেকে বেশিও করে পরাজিতদের অশ্রুজলকে অমর করে রাখে। ঠিক যেমনটা অমর হয়ে থাকল কাবো ভার্দের মহাকাব্য।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


