...
...
Next Story

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের, হাই কোর্টেই ফিরল মামলা

কপিল সিব্বলের দাবি, তৃণমূলের যে জায়গায় সাইনবোর্ড ছিল, তার ঠিক পাশেই হলদিরামের একটি বোর্ড রয়েছে। কিন্তু সেটি খোলা হয়নি। একই নিয়ম সকলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও আদালতের সামনে তোলেন তিনি। বোর্ড খোলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তৃণমূলের আইনজীবী।

Published on: Sep 7, 2026, 14:18:41 IST
Advertisement

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খোলা নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন মামলায় হস্তক্ষেপ করতে রাজি হল না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি আগে কলকাতা হাই কোর্টেই শুনানি হবে। তবে মামলার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির কথা মাথায় রেখে দ্রুত শুনানির জন্য হাই কোর্টকে পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খোলা নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। (HT_PRINT)
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খোলা নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। (HT_PRINT)

সোমবার শীর্ষ আদালতে কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবন লিজ নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই দলের দপ্তরের কাজ চলছে। ফলে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের অফিসে দলের নাম লেখা বোর্ড থাকবে না কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মামলার শুনানিতে তিনি একাধিক উদাহরণও তুলে ধরেন।

কপিল সিব্বলের দাবি, তৃণমূলের যে জায়গায় সাইনবোর্ড ছিল, তার ঠিক পাশেই হলদিরামের একটি বোর্ড রয়েছে। কিন্তু সেটি খোলা হয়নি। একই নিয়ম সকলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও আদালতের সামনে তোলেন তিনি। বোর্ড খোলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তৃণমূলের আইনজীবী।

তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, বিষয়টি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের বিচারাধীন। সেই মামলা খারিজও হয়নি। ফলে আবেদনকারীদের প্রথমে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেয় শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে দ্রুত শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করতে কলকাতা হাই কোর্টকে বলা হয়েছে।

সাইনবোর্ড খোলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে পুরসভার কর্মী ও পুলিশের টানাপোড়েন চলে বলে অভিযোগ। এমনকি কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কর্মী বাধা দিতে সিঁড়িতে শুয়ে পড়েন বলেও জানা যায়। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ কয়েকজনকে বাধা দিতে দেখা যায়। পুলিশকর্মীদের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুরসভার কর্মীরা বোর্ড খুলে ফেলেন।

এরপরই বিষয়টি গড়ায় আদালতে। কালীঘাট তৃণমূল কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে দাবি করে, সাইনবোর্ডটি ফের আগের জায়গায় লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। অন্যদিকে, ওই ভবনের মালিক আদালতে দাবি করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়াই সাইনবোর্ডটি লাগানো হয়েছিল।

তবে কলকাতা হাই কোর্ট সেই আবেদনে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করেনি। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। কিন্তু সেখানেও সরাসরি স্বস্তি মিলল না। বরং মামলাটি হাই কোর্টেই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ এল।

ফলে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই ঘটনায় আপাতত তৃণমূলের অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখেই রইল। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সাইনবোর্ড ফের বসবে কি না, ভবন মালিকের আপত্তি কতটা যুক্তিসঙ্গত, এবং পুরসভার পদক্ষেপ আইনসঙ্গত কি না—এই প্রশ্নগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন কলকাতা হাই কোর্টের হাতেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দ্রুত শুনানির অপেক্ষায় দুই পক্ষ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe