সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার শুরু হল রাজনৈতিক তরজা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, সিবিএসই-র নতুন অন স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম ব্যবস্থায় 'বড় ধরনের কারচুপি' হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবার সমস্যার মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে সিবিএসই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অভিযোগ 'ভুল এবং বিভ্রান্তিকর'।

রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, ডিজিটাল মূল্যায়নের দায়িত্ব কেন COEMPT নামের সংস্থাকে দেওয়া হল। তাঁর দাবি, এই সংস্থার আগের নাম ছিল Globarena এবং অতীতেও বিতর্কে জড়িয়েছে তারা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়ে থাকতে পারে। একইসঙ্গে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তিনি চারটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলে স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা এসআইটি তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।
এর জবাবে সিবিএসই জানায়, পুরো চুক্তি প্রক্রিয়া জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুল মেনেই করা হয়েছে। বোর্ডের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ২৮ অগস্ট সেন্ট্রাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট পোর্টালে দরপত্র ডাকা হয়েছিল এবং যোগ্য সংস্থাকেই কাজ দেওয়া হয়েছে। সিবিএসই-র দাবি, রাহুলের অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কের সূত্রপাত হয় এক ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাওয়া পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্র তাঁর নয়। পরে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। একইসঙ্গে একাধিক ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও পরীক্ষকরাও ওএসএম পদ্ধতিতে ভুল নম্বর, অস্পষ্ট স্ক্যান এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ তোলেন। সিবিএসই অবশ্য জানিয়েছে, যে পোর্টাল হ্যাক হওয়ার দাবি উঠেছিল সেটি শুধুই একটি টেস্টিং সাইট ছিল, মূল মূল্যায়ন পোর্টাল নয়। বোর্ডের দাবি, আসল ওএসএম প্ল্যাটফর্মে কোনও নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়েনি। পাশাপাশি মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতেই এই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।