Ethanol Petrol: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যতিক্রম নয় ভারত। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং খনিজ তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার উচ্চ মাত্রায় ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের ওপর থেকে আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো। ২২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ২৭ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলকে আবগারি শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের এই কর ছাড়ের সিদ্ধান্তের ফলে দেশে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারে এক নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার কেন্দ্রের তরফে জারি করা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এবার থেকে যে সমস্ত পেট্রোলে ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত থাকবে, সেগুলিকে আবগারি শুল্কের আওতা থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশে ই২০ পেট্রল প্রচার করা হচ্ছে। এখন সরকার ই২২, ই২৫, ই২৭ এবং ই৩০-এর মতো উচ্চ মিশ্রণের পেট্রলের পথও পরিষ্কার করে দিয়েছে। সম্প্রতি, ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) এই নতুন জ্বালানিগুলির জন্য গুণগত মানও জারি করেছে। নতুন এই মানগুলি, যা ১৫ মে, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে, তাতে ইথানলের শতাংশ, অকটেন স্তর, সালফারের পরিমাণ, বাষ্পচাপ এবং সুরক্ষা মান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবগারি শুল্ক হল জ্বালানি-সহ নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর সরকারের ধার্য করা কর। উচ্চ মাত্রার ইথানলযুক্ত পেট্রলকে এই শুল্কের আওতামুক্ত করার মাধ্যমে সরকার এই ধরনের জ্বালানি মিশ্রণকে উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। যদিও সরকার খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে প্রচলিত পেট্রলের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা করেনি। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত উচ্চ ইথানলযুক্ত জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত বর্তমানে তার মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের মাধ্যমে পূরণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্যজাত কৃষিপণ্য থেকে উৎপাদিত হয়। ফলে এর ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন তেল আমদানির ব্যয় কমবে, অন্যদিকে কৃষকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরি হবে। গত কয়েক বছরে ভারতের ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি কৃষি ও জ্বালানি-উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পেট্রল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি
ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। ভারতেও এই সংকটের বড়সড় প্রভাব পড়েছে। দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল, ডিজেলে, সিএনজির দাম। মহার্ঘ হয়েছে বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থের রান্নার গ্যাস। ২৫ মে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফের এক চরম দুঃসংবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন আমজনতা। বিশ্বব্যাপী এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের জেরে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবার বাড়ানো হয় পেট্রল ও ডিজেলের দাম। পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ৬১ পয়সা বেড়েছে। ডিজেল লিটারে ২ টাকা ৭১ পয়সা বেড়েছে। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে পরপর চারবার মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাগরিকদের এখন প্রতি লিটার জ্বালানির জন্য প্রায় ৮ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।
{{/usCountry}}ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। ভারতেও এই সংকটের বড়সড় প্রভাব পড়েছে। দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল, ডিজেলে, সিএনজির দাম। মহার্ঘ হয়েছে বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থের রান্নার গ্যাস। ২৫ মে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফের এক চরম দুঃসংবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন আমজনতা। বিশ্বব্যাপী এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের জেরে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবার বাড়ানো হয় পেট্রল ও ডিজেলের দাম। পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ৬১ পয়সা বেড়েছে। ডিজেল লিটারে ২ টাকা ৭১ পয়সা বেড়েছে। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে পরপর চারবার মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাগরিকদের এখন প্রতি লিটার জ্বালানির জন্য প্রায় ৮ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।
{{/usCountry}}