Petrol-Diesel Price: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে সরকারকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে হতে পারে। এমনই ইঙ্গিত দিলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। মঙ্গলবার সুইৎজারল্যান্ডে এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, সরকার আর্থিকভাবে বিচক্ষণ থেকেছে এবং আর্থিক সংহতকরণের পথেই চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে।

আরবিআই গভর্নরের মতে, ভারত জ্বালানি তেল ও সারের মতো অপরিহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তাই এই সংকটের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। এই সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে একসময় সরকারের পক্ষেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ বহন করা সম্ভব হবে না। তখন সেই চাপ জনসাধারণের উপরও পড়বে।' সেক্ষেত্রে খুব শীঘ্রই দাম বাড়তে পারে পেট্রোলডিজেলের। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার খুচরো বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্থির হয়ে রয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে।
এদিকে, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার এক বার্তায় তিনি করোনাকালের মতো পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় বিদেশযাত্রা এবং বিদেশে গিয়ে বিয়ের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও সোনা কেনা এবং ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। যদিও, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আশ্বস্ত করে বলেছেন, 'দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।' তবে এতদিন সরকার বা কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সরাসরি দাম বাড়ার সম্ভাবনা স্বীকার না করলেও, আরবিআই গভর্নরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জড়তা ভেঙে দিয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের পর এবার সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তুলে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দামও হু হু করে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠল।