NALSAR students: সমাবর্তনে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলা আইনের ছাত্রদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)-র কড়া পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পড়ুয়াদের বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে। ফলে নালসার (NALSAR) আইন বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অন্য কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা আইনের স্নাতকদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া অথবা রাজ্য স্তরের বার কাউন্সিলগুলি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না।

গত সপ্তাহেই নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-র কিছু ছাত্র ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে তাদের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণের বিরোধিতা করে। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক মন্তব্যই তাঁদের ক্ষোভের কারণ বলে জানা গেছে। এরপরেই বৃহস্পতিবার একটি চিঠিতে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ মনন কুমার মিশ্র সব রাজ্যের বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দেন নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল, হায়দারাবাদ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক হওয়া কোনও পড়ুয়াকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।
চিঠিতে মনন কুমার মিশ্র লেখেন, কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, কিছু শিক্ষকের মধ্যে দলাদলি ও নোংরা রাজনীতির কারণে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত, উস্কানি দেওয়া এবং বিপথে চালিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। যা খুবই গুরুতর বিষয়। শিক্ষকরা শিক্ষাদানে মনোনিবেশ না করে ক্যাম্পাসে নোংরা রাজনীতি করছেন। আইন শিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এমন একটি গুরুতর পরিস্থিতিতে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেনা। পরে অবশ্য একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
এদিকে, বার কাউন্সিলের পূর্বের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনানির জন্য উল্লেখ করা হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পড়ুয়াদের প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের বিষয়টি নিয়ে বিসিআই-এর এমন হস্তক্ষেপ আদালত ভালো চোখে দেখছে না। তিনি বলেন, ‘ওদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। কে আটকাবে? এটা ছাত্রদের সঙ্গে আমার সংলাপ। বিসিআই হস্তক্ষেপ করার কে? এ সম্পূর্ণ অহেতুক।’ শুনানিতে বিসিআই-এর আইনজীবী আদালতকে জানান, বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে শুনানিতে উপস্থিত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, 'এই ধরনের একটা বিতর্কিত প্রস্তাব নেওয়ার আগে কী বিসিআইয়ের যথাযথ বৈঠক ডাকা হয়েছিল? আমরা তা জানতে চাই।' এদিন নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমি যখন নিজে ছাত্র ছিলাম, তখন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর তোলে বা প্রতিবাদ জানায়, তবে তাদের সেই অনুমতি দেওয়া উচিত।'
{{/usCountry}}এদিকে, বার কাউন্সিলের পূর্বের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনানির জন্য উল্লেখ করা হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পড়ুয়াদের প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের বিষয়টি নিয়ে বিসিআই-এর এমন হস্তক্ষেপ আদালত ভালো চোখে দেখছে না। তিনি বলেন, ‘ওদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। কে আটকাবে? এটা ছাত্রদের সঙ্গে আমার সংলাপ। বিসিআই হস্তক্ষেপ করার কে? এ সম্পূর্ণ অহেতুক।’ শুনানিতে বিসিআই-এর আইনজীবী আদালতকে জানান, বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে শুনানিতে উপস্থিত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, 'এই ধরনের একটা বিতর্কিত প্রস্তাব নেওয়ার আগে কী বিসিআইয়ের যথাযথ বৈঠক ডাকা হয়েছিল? আমরা তা জানতে চাই।' এদিন নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমি যখন নিজে ছাত্র ছিলাম, তখন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর তোলে বা প্রতিবাদ জানায়, তবে তাদের সেই অনুমতি দেওয়া উচিত।'
{{/usCountry}}শুধু তা-ই নয়, বিসিআই বা কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলের তরফে নালসারের পড়ুয়া কিংবা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে আপাতত ওই পড়ুয়াদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির পথে কোনও বাধা থাকবে না। এমনকী শুনানির সময়েই প্রধান বিচারপতি নালসার থেকে সদ্য পাশ করা আইনজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, 'পড়ুয়াদের বলুন এনরোলমেন্ট সেরে নিতে। তারা সুপ্রিম কোর্টের বারে যোগ দিক। লিগ্যাল এইড প্যানেলে আমরা তাদের যুক্ত করব, যেখানে তারা আইনি সহায়তা দেওয়ার কাজ করবে।'