CJI Surya Kant: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স’ (TISS)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে (CJI Surya Kant)। কিন্তু আচমকাই সেই সমাবর্তন উৎসব স্থগিত করা হয়। তবে অবশেষে সমাবর্তনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রধান অতিথির তালিকা (Chief Guest) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে।

জানা গিয়েছে, গত ২ অগাস্ট টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ৮৬তম সমাবর্তন (TISS Convocation) হওয়ার কথা ছিল, যেখানে প্রধান অতিথি হওয়ার সম্মতি জানিয়েছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন আগে, ৩১ জুলাই গভীর রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে হঠাৎ করেই ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’র দোহাই দিয়ে সমাবর্তন স্থগিত করে দেয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানান, ‘অনুকূল পরিবেশ’ না থাকলে সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে ২২ অগাস্ট (শনিবার) সমাবর্তনের নতুন তারিখ ধার্য করা হয়। তবে নবপ্রকাশিত নিমন্ত্রণপত্রে দেখা যায়, বাদ পড়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নাম। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. সিএস প্রমেশকে। সূচি ও অতিথির এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে অফিসিয়াল কোনও বয়ান না মিললেও, প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য ছাত্র বিক্ষোভের আশঙ্কা এবং প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মূল কারণ ছিল, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট অতিথিদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের একাংশের সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জোর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। এসবের মাঝেই টিআইএসএস (TISS) কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের দিনক্ষণ বদলানোর পাশাপাশি এবার প্রধান অতিথির তালিকা থেকেও বাদ দিয়ে দিল প্রধান বিচারপতির নাম।
{{/usCountry}}সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মূল কারণ ছিল, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট অতিথিদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের একাংশের সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জোর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। এসবের মাঝেই টিআইএসএস (TISS) কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের দিনক্ষণ বদলানোর পাশাপাশি এবার প্রধান অতিথির তালিকা থেকেও বাদ দিয়ে দিল প্রধান বিচারপতির নাম।
{{/usCountry}}একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে হায়দরাবাদের নালসার (NALSAR) আইন বিশ্ববিদ্যালয়েও। সেখানেও প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাকার বিরোধিতা করে প্রতিবাদে নামেন। ঘটনাচক্রে, নালসারের শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের পর বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (BCI) চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিলে তার তীব্র সমালোচনা করেন খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘এটি আমার ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের কোনও ভূমিকা নেই। প্রতিবাদ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে।’ পরবর্তীতে বার কাউন্সিল নিজেদের নির্দেশ বাতিল করে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। মূলত যুব সমাজকে নিয়ে করা প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের যুব সমাজকে ‘আরশোলা’র সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ ওঠে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে অভিজিৎ দীপকে নামের এক তরুণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামে একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেন। তবে পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি সাফাই দিয়ে জানান, যুবসমাজকে নয়, তিনি মূলত বিচার ব্যবস্থার ক্ষতিকারক ‘ভুয়ো ডিগ্রিধারী আইনজীবী’দের উদ্দেশ্য করেই ‘আরশোলা’ শব্দটি প্রয়োগ করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কথা বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবুও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ছাত্রমহলে বিক্ষোভের রেশ এখনও অব্যাহত রয়েছে।