...
...
Next Story

China BRICS Plan: BRICS-এ চিনের নয়া চাল! AI-বাণিজ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে দাপট বাড়ানোর ছক শি জিনপিংয়ের

চিনের পাঁচ দফা পরিকল্পনার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বেজিং একটি BRICS AI ওপেন-সোর্স কমিউনিটি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। বড় ভাষাভিত্তিক মডেল বা Large Language Model-এর উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা, AI প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

Published on: Sep 14, 2026, 08:33:15 IST
Advertisement

ভারতের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল সদস্য দেশগুলির সম্মতিতে ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ গ্রহণ। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত কূটনৈতিকভাবে ঐকমত্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তী BRICS সম্মেলন ২০২৭ সালে চিনে অনুষ্ঠিত হবে। আর তার আগেই BRICS-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পাঁচ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

BRICS-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পাঁচ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ( )
BRICS-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পাঁচ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ( )

জিনপিংয়ের প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি। তাঁর বক্তব্য, BRICS দেশগুলির মধ্যে আরও বড় ও সমন্বিত বাজার তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা কমানো, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করা এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

চিনের পাঁচ দফা পরিকল্পনার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল AI বকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বেজিং একটি BRICS AI ওপেন-সোর্স কমিউনিটি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। বড় ভাষাভিত্তিক মডেল বা Large Language Model-এর উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা, AI প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ BRICS-এর প্রযুক্তি সহযোগিতায় AI-কে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে চিন।

দ্বিতীয় দফায় রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে সহজ করা। চিন BRICS Special Economic Zone Partnership গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৭ সালে BRICS Trade in Services Forum আয়োজনের কথাও জানিয়েছে বেজিং। লক্ষ্য হল সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বাড়ানো।

তবে এই পরিকল্পনার মধ্যে চিনের বৃহত্তর কৌশল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ বাণিজ্য ও উৎপাদনে চিন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি। একই সঙ্গে সস্তা পণ্য, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে বহু উন্নয়নশীল দেশের বাজারে চিনের উপস্থিতি শক্তিশালী। ফলে BRICS-এর মাধ্যমে যদি বাণিজ্যিক সংযোগ আরও বাড়ে, তাহলে চিনের অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়তে পারে।

AI নিয়ে উদ্বেগটাও কম নয়। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চিন দ্রুত এগোচ্ছে এবং নিজেদের AI পরিকাঠামো ও মডেলকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আওতায় আনতে চাইছে। ফলে BRICS-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মে চিনা প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলে তথ্য সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং ভবিষ্যৎ ডিজিটাল মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ভারত-চিনের মধ্যে সীমান্ত ও বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।

তবে জিনপিং স্পষ্ট করেছেন, চিনের আত্মনির্ভরতার অর্থ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নেটওয়ার্কের সঙ্গে চিন আরও গভীরভাবে যুক্ত থাকতে চায়। তাঁর এই অবস্থান চিনের ২০২৬-৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং শিল্পের আধুনিকীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ নয়াদিল্লিতে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের পর এবার নজর ২০২৭-এর বেজিং BRICS-এর দিকে। পরবর্তী সম্মেলনে চিন বাণিজ্য, AI ও প্রযুক্তিকে কতটা কেন্দ্রীয় করে তোলে এবং তার মাধ্যমে BRICS-এর অর্থনৈতিক কাঠামোয় কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটাই হতে পারে পরবর্তী বড় কূটনৈতিক প্রশ্ন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks