ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল বেজিং। ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানাল চিন। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, বেজিং মোদীর বক্তব্যকে ‘মূল্য দেয়’। ফলে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

দুই নেতার বৈঠকের দু’দিন পর চিনের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য সামনে এসেছে। সাত বছর পর ভারতে এসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন মোদী। বৈঠকে দুই দেশই সম্পর্কের ‘স্থিতিশীল অগ্রগতি’র কথা বলেছে। কিন্তু আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হয়ে উঠেছে ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি। আর তা নিয়েই চিনের গলায় কার্যত প্রশংসার সুর ভারতের জন্য।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মোদী স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতের বিদেশনীতি স্বাধীন। চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনও তৃতীয় দেশের প্রভাবে পরিচালিত হবে না। এমনকি ভারতের মাটিকে চিনের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতেও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বক্তব্যই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বেজিং।
চিনের কাছে এই বার্তার গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। কোয়াডের মতো মঞ্চে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতাও চিনের নজরে রয়েছে। ফলে ভারত কোনও শিবিরের হয়ে নয়, নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী বিদেশনীতি পরিচালনা করে—মোদীর এই অবস্থান বেজিংয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিনা মুখপাত্রও জানিয়েছেন, ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। শি জিনপিংয়ের বক্তব্য, দুই দেশের জাতীয় বাস্তবতা আলাদা হলেও তারা একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের পথে সহযোগিতা করতে পারে। দুই দেশের সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি।
{{/usCountry}}চিনা মুখপাত্রও জানিয়েছেন, ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। শি জিনপিংয়ের বক্তব্য, দুই দেশের জাতীয় বাস্তবতা আলাদা হলেও তারা একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের পথে সহযোগিতা করতে পারে। দুই দেশের সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি।
{{/usCountry}}তবে শুধু প্রশংসা নয়, ভারতও নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারত-চিন সম্পর্ক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী মোদী আগের সীমান্ত চুক্তি ও বোঝাপড়া মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। অর্থাৎ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারত আগ্রহী হলেও সীমান্ত সমস্যাকে উপেক্ষা করতে রাজি নয়।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার পর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে লাদাখের একাধিক সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। এর ফলে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা অনেকটাই কমে আসে।
এখন প্রশ্ন, মোদীর স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে বেজিংয়ের এই প্রকাশ্য প্রশংসা কি ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে? নাকি এটি শুধুই কূটনৈতিক বার্তা? আপাতত উত্তর স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—চিনের সামনে ভারত নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে, আর সেই অবস্থানকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানাল বেজিং। ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণে এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।