China-Philippines Clash: দক্ষিণ চিন সাগরে ফের উত্তেজনা ছড়াল চিন ও ফিলিপিন্সের মধ্যে। বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোল (Second Thomas Shoal) এলাকায় দুই দেশের নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে বেজিং ও ম্যানিলা। এই ঘটনার জেরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফিলিপিন্সের সেনাবাহিনীর দাবি, সোমবার নিয়মিত টহলের সময় একটি চিনা কোস্ট গার্ডের নৌযান তাদের একটি স্থলভিত্তিক যুদ্ধজাহাজের খুব কাছে চলে আসে। সেই সময় চিনা বাহিনীর সদস্যরা ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন। এরপর ফিলিপিন্সের দুটি নৌকা চিনা জাহাজটিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ম্যানিলার অভিযোগ, চিনা কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে একটি কাঠের লাঠি দিয়ে ফিলিপিন্সের এক নৌসেনার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ওই নৌসেনা আহত হন। পাশাপাশি ফিলিপিন্সের একটি রাবারের নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা একটি ভিডিওতেও একজন চিনা সদস্যকে লাঠি হাতে আঘাত করতে দেখা যাচ্ছে বলে ফিলিপিন্সের দাবি।
ঘটনার পর ফিলিপিন্সের সেনাবাহিনী বিবৃতিতে জানায়, চিনের এই ধরনের বেআইনি, জোরজবরদস্তিমূলক ও আগ্রাসী আচরণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। তারা ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায় মেনে চলারও আহ্বান জানায়। ওই রায়ে দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় ফিলিপিন্সের সামুদ্রিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, যদিও চিন সেই রায় মানে না।
অন্যদিকে, চিনের কোস্ট গার্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, ফিলিপিন্সের নৌযান বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও চিনা টহল নৌকার খুব কাছে চলে আসে এবং বিপজ্জনকভাবে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। চিনের দাবি, ফিলিপিন্সের নৌসেনারাই প্রথম বৈঠা ও কাঠের দণ্ড দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। আত্মরক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিং। একই সঙ্গে ফিলিপিন্সের বিরুদ্ধে ঘটনাকে বিকৃতভাবে তুলে ধরার অভিযোগও করেছে তারা।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, চিনের কোস্ট গার্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, ফিলিপিন্সের নৌযান বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও চিনা টহল নৌকার খুব কাছে চলে আসে এবং বিপজ্জনকভাবে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। চিনের দাবি, ফিলিপিন্সের নৌসেনারাই প্রথম বৈঠা ও কাঠের দণ্ড দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। আত্মরক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিং। একই সঙ্গে ফিলিপিন্সের বিরুদ্ধে ঘটনাকে বিকৃতভাবে তুলে ধরার অভিযোগও করেছে তারা।
{{/usCountry}}চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-ও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে চিনা কোস্ট গার্ডের সদস্যদের বলতে শোনা যায়, 'এটি চিনা কোস্ট গার্ড, অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যান।' ভিডিওতে দুই পক্ষের সদস্যদের হাতে বৈঠা ও লাঠি দেখা যায়।
এদিকে, এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিনের এই ধরনের বিপজ্জনক ও আগ্রাসী আচরণ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিরোধ মেটানোর যে প্রতিশ্রুতি চিন দিয়েছে, এই ঘটনা তার সম্পূর্ণ বিরোধী বলেও মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ফিলিপিন্সে আসিয়ান (ASEAN)-এর বিদেশমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই বৈঠকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-ও যোগ দিচ্ছেন। ফলে দক্ষিণ চিন সাগরের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘর্ষ আবারও প্রমাণ করল যে দক্ষিণ চিন সাগরকে ঘিরে চিন ও ফিলিপিন্সের বিরোধ এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।