আনুমানিক ১৪৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে ব্রহ্মপুত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ নির্মাণ করছে চিন। তবে চিনের এই ‘মেগা‘ বাঁধের ওপর ‘মেগা‘ বাধা হয়ে উঠছে সেই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক দিক। চিনের সরকার সমর্থিত জিওলজিস্টরা সতর্ক করেছেন যে, এই বাঁধ যেখানে তৈরি হচ্ছে, সেটি একটি 'অ্যাকটিভ ফল্ট লাইন' এর ওপর তৈরি হচ্ছে। যার ফলে এলাকায়, ভূমিধস, ভূমিকম্প হতে পারে। এছাড়াও আশঙ্কা রয়েছে বাঁধের পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির।
তিব্বতে ইয়ারলং স্যাংপো নদীর ওপর চিন তৈরি করছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বাঁধ। সেই নদীর জলরাশি, ভারতের সীমানায় ঢুকে নাম নিয়েছে সিয়াং, ব্রহ্মপুত্রের। এরপর তা প্রবেশ করেছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। ব্রহ্মপুত্রে চিনের বাঁধ নির্মাণ স্ট্র্যাটেজিক দিক সহ নানা দিক থেকে দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লি এই নদীর জলপ্রবাহ থেকে শুরু করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের পরিস্থিতি নিয়েও বহুবারই সরব হয়েছে।ওই এলাকায় এই বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এবার, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের জিওলজিলস্টরা সতর্ক করেছেন। ভূতত্ত্বের দিক থেকে ওই এলাকা সেসিমিক্যালি অ্যকটিভ। যার জেরে এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। চিনা ভাষার জার্নাল ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, প্রকল্পটির অবস্থান ‘পাইঝেন ফল্ট’-এর ওপর, এটি দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর ‘গ্রেট বেন্ড’ বা বিশাল বাঁকের কাছে অবস্থিত একটি সক্রিয় টেকটোনিক চ্যুতি অঞ্চল (ফল্ট জোন)। গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রায় ২৬ লক্ষ বছর আগে শুরু হওয়া ভূতাত্ত্বিক যুগ ‘প্লাইস্টোসিন’ থেকেই এই চ্যুতিটি ‘অত্যন্ত সক্রিয়’ রয়েছে এবং এতে এখনও টেকটোনিক বা ভূ-গাঠনিক নড়াচড়া অব্যাহত রয়েছে। এই চ্যুতি অঞ্চলের যেকোনও পরিকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তা সে রাস্তাই হোক, সুড়ঙ্গ হোক, ব্রিজ হোক, কিম্বা বাঁধ!
গবেষণায় বলা হয়েছে, চ্যুতিরেখা বরাবর নড়াচড়ার ফলে আশপাশের শিলাখণ্ড ও পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে, যা প্রকল্প এলাকার আশেপাশে ভূমিধস, শিলাধস ও ভূ-পৃষ্ঠের বিকৃতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এলাকায় এই প্রজেক্টের জন্য ক্রমাগত ভূতাত্ত্বিক গতিবিধি সম্পর্কিত নজরদারির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন জিওলজিস্টরা। ২০২৫ সালে চিনের শুরু করা এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ইয়ারলুং সাংপো নদীর নাটকীয় ‘গ্রেট বেন্ড’ বা বিশাল বাঁকের কাছে মেডোগ কাউন্টিতে নির্মাণ করা শুরু হয়। এই বাঁকটিতেই নদীটি একটি তীক্ষ্ণ ‘ইউ-টার্ন’ বা ইংরেজি ‘ইউ’ (U) অক্ষরের মতো বাঁক নেয় এবং এরপর অরুণাচল প্রদেশে ‘সিয়াং’ নামে ভারতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। এই নদে চিনের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে ভারত আগেও পরিবেশগত দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দিল্লির সেই উদ্বেগে কার্যত শিলমোহর দিলেন চিনের নিজের ভূখণ্ডের জিওলজিস্টরা।
{{/usCountry}}গবেষণায় বলা হয়েছে, চ্যুতিরেখা বরাবর নড়াচড়ার ফলে আশপাশের শিলাখণ্ড ও পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে, যা প্রকল্প এলাকার আশেপাশে ভূমিধস, শিলাধস ও ভূ-পৃষ্ঠের বিকৃতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এলাকায় এই প্রজেক্টের জন্য ক্রমাগত ভূতাত্ত্বিক গতিবিধি সম্পর্কিত নজরদারির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন জিওলজিস্টরা। ২০২৫ সালে চিনের শুরু করা এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ইয়ারলুং সাংপো নদীর নাটকীয় ‘গ্রেট বেন্ড’ বা বিশাল বাঁকের কাছে মেডোগ কাউন্টিতে নির্মাণ করা শুরু হয়। এই বাঁকটিতেই নদীটি একটি তীক্ষ্ণ ‘ইউ-টার্ন’ বা ইংরেজি ‘ইউ’ (U) অক্ষরের মতো বাঁক নেয় এবং এরপর অরুণাচল প্রদেশে ‘সিয়াং’ নামে ভারতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। এই নদে চিনের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে ভারত আগেও পরিবেশগত দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দিল্লির সেই উদ্বেগে কার্যত শিলমোহর দিলেন চিনের নিজের ভূখণ্ডের জিওলজিস্টরা।
{{/usCountry}}