...
...
Next Story

Indian Navy: ‘দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের...’ ভারত মহাসাগরে চিন-পাকিস্তানের তৎপরতা, বিশেষ বার্তা নৌসেনা প্রধানের

Indian Navy: অ্যাডমিরাল দীনেশ ত্রিপাঠী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারত কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে কৌশল নির্ধারণ করছে না। বরং দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই নৌসেনার প্রধান লক্ষ্য।

Published on: May 31, 2026 04:00 PM IST
Advertisement

Indian Navy: ভারত মহাসাগরে ক্রমশ বাড়ছে কৌশলগত প্রতিযোগিতা। এই অঞ্চলে চিন এবং পাকিস্তানের সামুদ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করলেন ভারতীয় নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। তাঁর দাবি, সমুদ্রপথে যে কোনও দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দিতে সক্ষম। সমুদ্রের নীচে নজরদারি থেকে শুরু করে সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষমতা, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক কার্যক্রম সর্বত্রই নৌবাহিনীকে তৈরি রাখা হয়েছে। বহিরাগত যে কোনও আক্রমণে দ্রুত এবং জোরালো জবাব দিতে সক্ষম ভারত।

বিশেষ বার্তা নৌসেনা প্রধানের (@indiannavy)
বিশেষ বার্তা নৌসেনা প্রধানের (@indiannavy)

সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নৌসেনা প্রধান জানান, গত কয়েক বছরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বিশেষ করে চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক সক্রিয়তা এবং পাকিস্তানের নৌশক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ভারতের নজরে রয়েছে। তাঁর কথায়,‘ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সে বিষয়ে অবগত। এই অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত বহিঃশক্তির উপস্থিতি চোখে পড়ছে। যার ফলে পরিস্থিতি আমাদের ‘সহযোগিতার যুগ’ থেকে ‘তীব্র প্রতিযোগিতার যুগে’ ঠেলে দিয়েছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে চিন। বেজিংয়ের সহায়তায় পাকিস্তান একাধিক ডিজেল-ইলেকট্রিক আক্রমণাত্মক সাবমেরিন সংগ্রহ করছে। ইতিমধ্যেই সেই প্রকল্পের একটি সাবমেরিন পাকিস্তানের নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছেছে বলে দুই দেশ যৌথভাবে ঘোষণা করেছে। গত মাসেই পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে চিনের তৈরি অত্যাধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন।

তবে অ্যাডমিরাল দীনেশ ত্রিপাঠী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারত কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে কৌশল নির্ধারণ করছে না। বরং দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই নৌসেনার প্রধান লক্ষ্য। তাঁর কথায়, 'আমাদের লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট দেশ নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং একটি স্থিতিশীল, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক নিশ্চিত করা। যে কোনও জটিল, দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।’ ভারতীয় নৌসেনা নজরদারি পরিকাঠামোয় আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছে বলে জানিয়েছেন নৌসেনা প্রধান। তাঁর মতে সামুদ্রিক পরিমণ্ডল সম্পর্কে সচেতনতা, ডুবোজাহাজের আক্রমণ প্রতিরোধ, সমুদ্রের নীচে নজরদারি, দূরপাল্লার পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে ভারতের। প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতের যে কোনও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনী প্রধান জানান, ভারত ইতিমধ্যে নজরদারি ব্যবস্থা, সামুদ্রিক ডোমেইন সচেতনতা, আন্ডারওয়াটার যুদ্ধ সক্ষমতা এবং দূর-পাল্লার সামুদ্রিক রিকনাইস্যান্স শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় ছয়টি স্টেলথ সাবমেরিন এবং ২০০টির বেশি জাহাজের নৌবহর গঠনের পরিকল্পনা চলছে। নৌবাহিনীর মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু সীমান্ত নয়, সমুদ্রপথের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উদ্ভূত প্রতিটি পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

অকাস-এর ডুবো ড্রোন প্রযুক্তি

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe