...
...
Next Story

Chinese Bank during Doklam Standoff: ডোকলাম সংঘাতের সময় ভারতের ১৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ আটকে দিয়েছিল চিনা ব্যাঙ্ক

ডোকলাম সংঘাতের সময়ে চিনা ব্যাঙ্কের মুম্বই শাখা আগে থেকে অনুমোদিত ১১টি ঋণ ও বন্ডে বিনিয়োগের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এই লেনদেনগুলির মোট মূল্য ছিল প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

Published on: Sep 21, 2026, 08:47:51 IST
Advertisement

Chinese Bank during Doklam Standoff: ২০১৭ সালে ভারত ও চিনের মধ্যে ডোকলাম সীমান্তে দীর্ঘ সংঘাত হয়েছিল। সেই সময় দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছিল চিনের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক অব চায়নার মুম্বই শাখাতেও। ওই সময়ে ব্যাঙ্কটি আগে থেকে অনুমোদিত ১১টি ঋণ ও বন্ডে বিনিয়োগের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এই লেনদেনগুলির মোট মূল্য ছিল প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

FILE PHOTO: People visit the Industrial and Commercial Bank of China (ICBC) booth at the 2021 China International Fair for Trade in Services (CIFTIS) in Beijing, China September 3, 2021. REUTERS/Florence Lo/File Photo (REUTERS)
FILE PHOTO: People visit the Industrial and Commercial Bank of China (ICBC) booth at the 2021 China International Fair for Trade in Services (CIFTIS) in Beijing, China September 3, 2021. REUTERS/Florence Lo/File Photo (REUTERS)

তথ্যগুলি চিনের রাজধানী বেজিং থেকে পরিচালিত কোনও সরকারি নথি নয়। এগুলি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ নথি থেকে পাওয়া তথ্য। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজির ‘চায়না ক্যাপিটাল’ নামে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তে এই নথিগুলি সামনে এসেছে। ২০১৭ সালের জুনে ডোকলাম এলাকায় সংঘাতের সূত্রপাত হয়। চিন সেখানে একটি রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছিল। ওই এলাকা নিয়ে চিন ও ভুটানের মধ্যে বিরোধ ছিল। ভারত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। এরপর ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে টানা ৭৩ দিন মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।

আগস্ট ২০১৭-তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। দুই দেশ সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। তবে ওই সময়ের উত্তেজনা চিনের মুম্বই শাখার ব্যবসাতেও প্রভাব ফেলেছিল।

ব্যাঙ্কের ২০১৮ সালের জানুয়ারির একটি গোপন অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে শাখাটিকে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দুই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। ঝুঁকি কমাতে ব্যাংক ঋণ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আগে থেকেই অনুমোদন পাওয়া ১১টি ঋণ ও বন্ড বিনিয়োগের টাকা তখনও গ্রাহকদের দেওয়া হয়নি। সেই অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যাঙ্কের নথি অনুযায়ী, এর ফলে মুম্বই শাখার আয়ও কমে যায়। অভ্যন্তরীণ হিসাবে বলা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ৬.৩৬ মিলিয়ন ডলার পরিচালন আয় কমে যেতে পারে। ওই বছর মুম্বই শাখা নিজেদের লাভের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৭.৭ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছিল। এই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ব্যাঙ্কের বেজিং সদর দফতর।

তবে শুধু ব্যবসায়িক বিষয়েই নজর দেওয়া হয়নি। কর্মীদের উদ্বেগ কমাতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্যাঙ্কের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কর্মীদের বৈঠক করা হয়। চা-আড্ডা, একান্ত আলোচনাসহ নানা সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এই তথ্যগুলি ব্যাঙ্কের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট থেকে পাওয়া। তাই এগুলিকে ডোকলাম সংঘাতের সময় ব্যাংকের কার্যকলাপের কোনও স্বাধীন মূল্যায়ন হিসেবে ধরা হচ্ছে না।

‘চায়না ক্যাপিটাল’ তদন্তে প্রায় ৪৮ লক্ষ গোপন নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমেল, অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট, গ্রাহকের গোপন নথি, বৈঠকের রেকর্ড এবং কমিউনিস্ট পার্টির কমিটির সঙ্গে সম্পর্কিত নথিও রয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের এই নথিগুলি মূলত আইসিবিসির লন্ডন শাখা ও ব্রিটেনের একটি সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

আইসিআইজির এই তদন্তে ২৪টি দেশের ২৪টি সংবাদমাধ্যমের ৭৫ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইসিবিসির কাজকর্ম এবং চিনের রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাংকটির সম্পর্ক বোঝা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks