...
...
Next Story

মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিমি! আবারও নিজের রেকর্ড ভাঙল চিনা ম্যাগলেভ ট্রেন

Maglev train: হুবেই প্রদেশের ডোংঘু ল্যাবরেটরিতে ১ কিলোমিটারের পরীক্ষামূলক রেল ট্র্যাকে এই গতি অর্জন করেছে ম্যাগলেভ। চূড়ান্ত গতিতেও এই ট্রেন কতটা স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা পরীক্ষা করতেই এই গতি তোলা হয়।

Published on: Aug 14, 2026, 23:03:37 IST
Advertisement

Maglev train: ফের গতির পরীক্ষায় বিশ্ব রেকর্ড করল চিন (China) । চিনের নতুন ম্যাগলেভ ট্রেন (Maglev train) যে নজির তৈরি করল, তাতে গতির ঝড়ের মতো শব্দবন্ধও হয়তো খুব সাদামাটা মনে হবে। কারণ, পরীক্ষামূলক দৌড়ে মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৮০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি তুলে নিজেরই তৈরি করা বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে চিনের এই বিস্ময় ট্রেন। এই নিয়ে গত ছয় মাসে তৃতীয়বারের মতো নিজেই নিজের করা রেকর্ড ভাঙল চিনের ম্যাগলেভ ট্রেন।

আবারও নিজের রেকর্ড ভাঙল চিনা ম্যাগলেভ ট্রেন (সৌজন্যে টুইটার)
আবারও নিজের রেকর্ড ভাঙল চিনা ম্যাগলেভ ট্রেন (সৌজন্যে টুইটার)

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, হুবেই প্রদেশের ডোংঘু ল্যাবরেটরিতে ১ কিলোমিটারের পরীক্ষামূলক রেল ট্র্যাকে এই গতি অর্জন করেছে ম্যাগলেভ। চূড়ান্ত গতিতেও এই ট্রেন কতটা স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা পরীক্ষা করতেই এই গতি তোলা হয়। ১.১ টন ওজনের এই ট্রেন প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। এর আগে ১.১ টন ওজনের এই পরীক্ষামূলক ট্রেনটি ঘণ্টায় ৭৯৮ কিলোমিটার গতিতে ছুটেছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম বার ম্যাগলেভ ট্রেন মাত্র ২ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটারের গতি স্পর্শ করেছিল। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিল ম্যাগলেভ।

কেন ম্যাগলেভ ট্রেনের গতি এত দ্রুত?

চিন এই ট্রেন প্রথম পরীক্ষা করেছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সেই সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। চৌম্বক শক্তিকে ব্যবহার করে রেল লাইনের সঙ্গে সরাসরি স্পর্শ এড়িয়ে গতির ঝড় তোলে ম্যাগলেভ ট্রেন। রেল পথ বরাবর পেতে রাখা চৌম্বক ক্ষেত্রগুলি এই ট্রেনকে রেল লাইনের সঙ্গে ঘর্ষণ এ়ড়িয়ে ভাসিয়ে রাখে। অন্যদিকে, কয়েলের মাধ্যমে উৎপন্ন হওয়া তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তির সাহায্যে এই ট্রেন সামনের দিকে এগিয়ে যায়। যেহেতু এত তীব্র গতিতে এই ট্রেন ছোটে, ফলে ম্যাগলেভ ট্রেনের রেলপথে সামান্যতম বিচ্যুতিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন-এর দাবি অনুযায়ী, এই বিচ্যুতি ০.৫ মিলিমিটারের মধ্যেই রাখতে হয়।

তবে এবারের পরীক্ষায় শুধুমাত্র সর্বোচ্চ গতি ছোঁয়াই লক্ষ্য ছিল না চিনা প্রযুক্তিবিদ এবং গবেষকদের। তাঁরা দেখতে চেয়েছিলেন চোখের নিমেষে গতির ঝড় তুলেও ম্যাগলেভ কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকছে। তবে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি স্পর্শ করার পরেও মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যেই ম্যাগলেভকে থামিয়ে দেওয়াও সম্ভব হয়েছে। চিনা গবেষকরা আরও উন্নত ম্যাগলেভ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। এর একটি সম্ভাব্য ব্যবস্থায় কম বায়ুচাপ বা প্রায় শূন্যচাপের টিউবের ভেতর দিয়ে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বায়ুর বাধা কমিয়ে আরও বেশি গতি অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। চিনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলটির গবেষকেরাও অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের এক পরীক্ষায় মাত্র ২ সেকেন্ডে ট্রেনটি ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছেছিল।

তবে মানুষের যাতায়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল কাঠামোগত ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দীর্ঘ ট্র্যাক নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণের জটিলতা।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe