চিনকে নিজের সব মরশুমের বন্ধু বলেই উল্লেখ করে এসেছে পাকিস্তান। সেই চিন পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় বিনিয়োগও করেছে। এরই মাঝে পাকিস্তানের ফয়জলাবাদ ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন-(FESCO)র বেসরকারিকরণের (প্রাইভেটাইজেশনের) জন্য হচ্ছিল নিলাম। সেই নিলামে অংশ নেয় চিনের রাষ্ট্র সম্পর্কিত এক সংস্থা। তবে সেই নিলামে সাফল্য পায়নি চিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ওই সংস্থা। ফলত, জল্পনা তুঙ্গে।

আগেই, চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের কয়েক হাজার কিলোমিটারের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল বেজিং। চিনের কাশগড় থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর হয়ে ইসলামাবাদ, লাহোর পেরিয়ে আরব সাগরের তীরে গদর পর্যন্ত বিস্তৃত সিপিইসি। তবে সেই রাস্তার বড় অংশ পাকিস্তানের বালোচিস্তানের ওপর দিয়ে গিয়েছে। ইসলামাবাদের সঙ্গে বালোচিস্তানের সংঘাত বহুদিনের। ফলত, কিছু মাস আগেই, চিনের এই প্রজেক্ট ঘিরে বালোচরা সরব হয়। সেই পরিস্থিতিতে সেখানে চিনা নাগরিকদের ওপর বালোচদের হানার নানান খবর উঠে আসতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য যদি পাকিস্তানের প্রজেক্ট থেকে চিনকে হাত গুটিয়ে নিতে হয়, তবে তা ইসলামাবাদের জন্যও খুব একটা সুখকর হবে না। এই অবস্থাতেই ফয়জলাবাদের বিদ্যুৎ কর্পোরেশনের প্রাইভেটাইজেশনের সত্ত্ব নিতে গিয়ে নিলামে ব্যাকফুটে গিয়েছে চিনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা।
নিলামে থাকা চিনা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিয়াং শি ইলেকট্রিক পাওয়ার কনস্ট্রাকশন’ শুরুতে ‘ফেসকো’ (FESCO)-র ৫১ থেকে ১০০ শতাংশ মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ অর্জনের লক্ষ্যে আগ্রহপত্র (Expression of Interest) জমা দিয়েছিল। এই পরিষেবা সংস্থাটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশকারী ১২টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র চিনা অংশগ্রহণকারী। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনা প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত নথিপত্র সংক্রান্ত শর্তাবলী মেনে চলার পরিবর্তে ম্যান্ডারিন ভাষায় তাদের দরপত্র জমা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বেসরকারিকরণ কমিশন পরবর্তী ধাপের জন্য আগ্রহী ১২টি পক্ষের মধ্যে ১০টিকে অনুমোদন দিলেও, চিনা দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। মূলধন সংগ্রহ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং লোকসান কমানোর লক্ষ্যেই পাকিস্তান তার বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
একদিকে বালোচ বিদ্রোহীদের রোষের মুখে সিইপিসি প্রজেক্ট, অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন ঘনিষ্ঠতার মাঝেই ফয়জলাবাদের বিদ্যুৎ সংস্থার বেসরকারি করণ থেকে চিনা সংস্থার ছিটকে যাওয়া। দুই ঘটনা ঘিরেই নানান জল্পনা চলছে।
{{/usCountry}}একদিকে বালোচ বিদ্রোহীদের রোষের মুখে সিইপিসি প্রজেক্ট, অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন ঘনিষ্ঠতার মাঝেই ফয়জলাবাদের বিদ্যুৎ সংস্থার বেসরকারি করণ থেকে চিনা সংস্থার ছিটকে যাওয়া। দুই ঘটনা ঘিরেই নানান জল্পনা চলছে।
{{/usCountry}}