...
...
Next Story

Chinmoy Krishna Das Update: মায়ের মৃত্যুর পর মিলল ৫ ঘণ্টার প্যারোল, শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারলেন না চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছরের সন্ধ্যা রানী ধর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে তাঁর একমাত্র ইচ্ছা ছিল বন্দি ছেলেকে একবার দেখা। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।

Published on: Sep 11, 2026, 10:50:48 IST
Advertisement

Chinmoy Krishna Das Update: মা শেষবার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হল না। দীর্ঘদিন জেলে বন্দি থাকা বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর বৃহস্পতিবার মারা গেলেন। অভিযোগ, মৃত্যুর আগে মাকে দেখতে ছেলের জন্য পরিবারের তরফে প্যারোল চাওয়া হলেও অনুমতি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত মায়ের মৃত্যুর পর পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে তাঁর শেষকৃত্যে অংশ নিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।

মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে দেখা হল না

মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ হল না, ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর চোখে জল
মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ হল না, ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর চোখে জল

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছরের সন্ধ্যা রানী ধর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে তাঁর একমাত্র ইচ্ছা ছিল বন্দি ছেলেকে একবার দেখা। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।

পরিবারের অভিযোগ, বুধবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে শর্তসাপেক্ষে প্যারোলে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের তরফে পরিবারকে জানানো হয়, অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে কোনও বন্দিকে প্যারোল দেওয়ার আইনি ব্যবস্থা নেই। তার পরের দিনই মৃত্যু হয় সন্ধ্যা রানী ধরের।

মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোল

মায়ের মৃত্যুর খবরের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য জেল থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মহম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার নির্দেশে তিনি মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মায়ের শেষকৃত্য হয় চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামে। সেখানে পৌঁছনোর পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির পায়ে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। মূর্তির চরণে মাথা রেখে দীর্ঘক্ষণ কাঁদতে দেখা যায় তাঁকে।

মাকে শেষবার দেখতে না পারার যন্ত্রণা

পরিবারের দাবি, ছেলের দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রানী ধর। ছেলে অসুস্থ—এমন খবর, বারবার জামিন না পাওয়া এবং জেল থেকে মুক্তি না পাওয়ার দুশ্চিন্তা তাঁর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সাম্প্রতিক জামিন শুনানির পর ছেলের মুক্তির আশাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আশাও শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

কেন জেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস?

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর গ্রেফতারির পর বাংলাদেশে একাধিক বিক্ষোভ হয়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে দাবিও ওঠে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি। কিন্তু অন্য মামলাগুলির কারণে এখনও জেল থেকে মুক্তি মেলেনি। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর জামিনের উপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের স্পিডি ট্রায়াল ট্রাইব্যুনালে একটি হত্যা মামলার বিচার চলছে।

সেই হত্যা মামলার অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে চট্টগ্রামে সরকারি কৌঁসুলি সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনা। চিন্ময়ের গ্রেফতারির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের সময় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ হল না, ছেলের চোখে জল

পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। কিন্তু যে মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখা, সেই দেখা আর হল না।

মায়ের মৃত্যুর পর ছেলের কান্নার সেই ছবি তাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের মাঝেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি—সব মিলিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জীবনে আরও একটি গভীর বেদনার অধ্যায় যোগ হল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks