Jantar Mantar protest: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের ফের আলোচনায় ডাকল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যে কোনও সময়ে তাঁরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন এবং সরকারের পুনরায় আলোচনার বার্তা সত্ত্বেও গলল না বরফ। উল্টে অসন্তুষ্ট সিজেপি আগামিকাল, ২৪ জুলাই দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিচারের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারকে যন্তর মন্তরে এসে আলোচনার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
কেন্দ্রের প্রস্তাব

জিতেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য, এই নিয়ে বুধবার বিকেল থেকে মোট চার বার বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডাকা হল। সরকার পড়ুয়াদের হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তাঁদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চার বার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমাদের বার্তা, সমস্ত বিষয় নিয়ে সরকার আপনাদের সুবিধামতো যে কোনও সময়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমি আপনাদের সকলকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি, আসুন, আলোচনায় বসুন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাড়ি বা অফিসে বৈঠক হতে পারে। নড্ডা এবং আমি সেখানে থাকব। আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা একটা সমাধানের দিকে এগোব।’ ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের জন্য সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ করছে বলে জানান মন্ত্রী। এই আলোচনায় আহ্বানও তার একটি অঙ্গ।
অনড় সিজেপি
তবে সরকার বার বার ডাকলেও জেপি নাড্ডার বাড়ি বা দফতরে আলোচনায় রাজি নয় সিজেপি। তাদের স্পষ্ট কথা, শুধুমাত্র আশ্বাস বা ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের প্রক্রিয়াই সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণ।
{{/usCountry}}১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণ।
{{/usCountry}}২. নিট-সহ প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
৩. পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত সংস্কার।
৪. আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার এবং পুলিশি বলপ্রয়োগের তদন্ত।
এছাড়া প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র শীর্ষ আধিকারিকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনও রুদ্ধদ্বার বৈঠক বা ব্যক্তিগত বাসভবনে নয়, আন্দোলনকারীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে হবে এবং লিখিত ভাবে সরকারের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের রূপরেখা পেশ করতে হবে।
দেশব্যাপী কর্মসূচির রূপরেখা
সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ জুলাই, শুক্রবার দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। ‘সারা ভারতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি বর্বরতার’ প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি। সিজেপি-র তরফে বলা হয়, ‘সরকার আলোচনার কথা বলে আন্দোলন ঝিমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। সরকার যতক্ষণ না আমাদের মূল দাবিগুলি মেনে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন রাজপথেই থাকবে।’ আন্দোলনের বিরূপ ফল যাতে না হয়, এর জন্য বাড়তি সাবধানী ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের কাছে শুধুমাত্র ‘জয় হিন্দ, ভারত মাতা কি জয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, জয় ভীম’-এর মতো ইতিবাচক স্লোগান তুলতে অনুরোধ করেছে তাঁরা। এছাড়া যাই ঘটুক না কেনও হিংসাত্মক ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালীন সবকিছু রেকর্ড করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরব আইনজীবীরা
দিল্লিতে নিট-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে এবার সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের একাংশ আইনজীবী। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত চত্বরে তাঁরা একত্রিত হয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন এবং জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধান রক্ষার বার্তা দেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফের জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে ছাত্র আন্দোলন এবং পুলিশি পদক্ষেপের বিতর্ক। ইন্দিরা জয়সিং-সহ বেশ কয়েক জন আইনজীবী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সওয়া ১টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন। প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা অনুরোধ করেছিলেন, এই কর্মসূচিতে কেউ যেন রাজনৈতিক বা উস্কানিমূলক স্লোগান না দেন। বুধবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। ‘গণতন্ত্র বাঁচান, সংবিধান বাঁচান’ বার্তা দিয়ে আইনজীবীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যেই অভিযোগ ওঠে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর ফের পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। সোমবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে আগেই বিবৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন।