আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে গভীর রাতে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর আপাতত সেই আশঙ্কা কেটেছে। বৈঠকের পর সিজেপির দাবি, সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছে যে বিজেপি ও এনডিএ শাসিত আরও বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে এবং কোনও আন্দোলনকারীকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার ভোররাত ১টা নাগাদ এক্স-এ সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের প্রতিনিধিরা বিহার ও অসম সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তির কপি তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ও গ্রেফতার হওয়া সকলকে মুক্তি দেওয়ার আশ্বাস রয়েছে।
সৌরভ দাসের দাবি, শুধু বিহার ও অসম নয়, কেন্দ্র সরকার এবং অন্যান্য বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যেও একই ধরনের ভাষায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তাঁর কথায়, ‘কোনও আন্দোলনকারীকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’ তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেই বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকের পর প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল। সেই বিষয়টি বৈঠকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। জবাবে সরকারের প্রতিনিধিরা বিহার স্বরাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তি দেখান, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের নির্দেশিকা জারি করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, কোন কোন রাজ্যে এখনও ঝুঁকি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করার বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে। তাঁর দাবি, বুধবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
{{/usCountry}}তিনি জানান, কোন কোন রাজ্যে এখনও ঝুঁকি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করার বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে। তাঁর দাবি, বুধবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
{{/usCountry}}এর আগে সোমবারই সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রানকা অভিযোগ করেছিলেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শতাধিক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের নজরদারি ও হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদেরও আটক করার অভিযোগ ওঠে। রানকা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অবিলম্বে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার ছাত্রদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও এফআইআর না হলে সিজেপি আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাতের বৈঠক নতুন মোড় আনে। বৈঠকের পর সৌরভ দাস আরও জানান, বিহার ও অসমের পর রাজস্থান সরকারও আশ্বাস দিয়েছে যে সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেবে না।
উল্লেখ্য, অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে সিজেপির ৩৭ দিনের আন্দোলন সম্প্রতি শেষ হয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হলেও, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। তবে রাতভর বৈঠকের পর আপাতত নতুন আন্দোলনের সম্ভাবনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন নজর থাকবে, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কি না এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়।