ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি কি ভবিষ্যতে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে নামবে? আন্দোলনের শুরু থেকেই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংগঠনের নেতাদের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনও একক উত্তর দিতে চাইছেন না তাঁরা। বরং সিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, আপাতত তাঁরা একটি ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবেই কাজ করতে চান। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এই অবস্থানের কারণও এবার স্পষ্ট করেছেন সিজেপির সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস। তাঁর কথায়, ২০১১-১৩ সালের ‘ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন’ আন্দোলন এবং পরে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক উত্থান থেকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছেন। সেই কারণেই ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই বড় কোনও ঘোষণা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিতে চান না সিজেপির নেতারা।
সৌরভ দাস একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, জীবনে কখনওই ‘কখনও না’ বলা উচিত নয়। তাঁর মতে, আন্দোলনের সময় ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে আগাম কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা ঠিক নয়। কারণ পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে বদলায় এবং আন্দোলনের পথও সেই অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সংগঠনটি আপাতত বর্তমান পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই এগোতে চায়।
এই অবস্থানের পিছনে কেজরিওয়ালের উদাহরণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন’ আন্দোলনের সময় কেজরিওয়াল একাধিকবার বলেছিলেন, তিনি কখনও রাজনীতিতে আসবেন না এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। তিনি আম আদমি পার্টি গঠনের ঘোষণা করেন এবং শেষ পর্যন্ত সক্রিয় নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার মতো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়েও কেজরিওয়ালকে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আগাম বড় দাবি এড়াতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সৌরভ দাস জানান, বর্তমানে তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চাপ তৈরি করা এবং একটি শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলনের জায়গা তৈরি করা। তবে ভবিষ্যতে তাঁদের মধ্যে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে সেই সম্ভাবনাও তাঁরা বন্ধ করে দিতে চান না।
{{/usCountry}}সৌরভ দাস জানান, বর্তমানে তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চাপ তৈরি করা এবং একটি শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলনের জায়গা তৈরি করা। তবে ভবিষ্যতে তাঁদের মধ্যে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে সেই সম্ভাবনাও তাঁরা বন্ধ করে দিতে চান না।
{{/usCountry}}সহকর্মী রত্না সিংয়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সৌরভ বলেন, বর্তমানে তাঁরা বর্তমান নিয়েই ভাবতে চান। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনও কঠোর প্রতিশ্রুতি দিলে পরে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তা সমস্যার কারণ হতে পারে।
সোনম ওয়াংচুকের একটি মন্তব্য নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। ওয়াংচুক আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সিজেপির নেতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। সৌরভ দাস বলেন, সেটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাঁর মতে, দশ বা পনেরো বছর পর কারও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হলে তা নিয়ে এমন ধারণা হওয়া উচিত নয় যে তাঁরা অতীতে মিথ্যা বলেছিলেন।
বরং সৌরভের বক্তব্য, তাঁরা চান আরও বেশি ভাল ও যোগ্য মানুষ রাজনীতিতে আসুন। তরুণদের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করে বিধায়ক ও সাংসদ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা বাইরে থেকে সমালোচনা করার পাশাপাশি ভিতর থেকেও পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
অর্থাৎ, এখনই নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘোষণা না করলেও সিজেপি নেতৃত্ব ভবিষ্যতের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। কেজরিওয়ালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁদের কৌশল—প্রতিশ্রুতির বদলে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ফলে সিজেপি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, তা এখনও ভবিষ্যতেরই প্রশ্ন।