...
...
Next Story

পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষা, শুনানি মাত্র ১০ মিনিট! ছ’দিন ধরে জেলে CJP-র দুই নেতা

রবিবার দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শুনানির কথা ছিল। CJP-র প্রতিনিধিদের দাবি, দুপুর দেড়টা থেকে ২টোর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট থানায় পৌঁছলেও শুনানি শুরু হয় বিকেল ৫টা নাগাদ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হওয়া শুনানি শেষ হয়ে যায় মাত্র কয়েক মিনিটে।

Published on: Oct 19, 2026, 10:38:35 IST
Advertisement

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা কিছুতেই কমছে না। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকার মুক্তি নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, মুক্তির শুনানির জন্য প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনও সুরাহা হল না। শুনানি চলল মাত্র ৮-১০ মিনিট। ফলে টানা ষষ্ঠ দিনেও জেল থেকে বেরোতে পারলেন না তাঁরা। অন্য দিকে, তাঁদের মুক্তির প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে CJP। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, মুক্তির জন্য জমা দেওয়া জামিনদারির কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে।

পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলল না মুক্তি

রবিবার দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শুনানির কথা ছিল। (PTI)
রবিবার দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শুনানির কথা ছিল। (PTI)

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শুনানির কথা ছিল। CJP-র প্রতিনিধিদের দাবি, দুপুর দেড়টা থেকে ২টোর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট থানায় পৌঁছলেও শুনানি শুরু হয় বিকেল ৫টা নাগাদ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হওয়া শুনানি শেষ হয়ে যায় মাত্র কয়েক মিনিটে।

CJP-র অভিযোগ, ১৫ অক্টোবর থেকে বার বার জামিনদারির বন্ড জমা দেওয়া হলেও নানা অজুহাতে তা গ্রহণ করা হয়নি। কখনও ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানতের নথি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, কখনও আবার জামিনদারের দিল্লির ঠিকানা না থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে মুক্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে দাবি দলের নেতাদের।

দলের নেতা অভিজিৎ দীপকেরও অভিযোগ, সৌরভ ও আশুতোষকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখার সময় বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া চলছে। ত্রুটিপূর্ণ জামিনদারির বন্ড গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

কেন গ্রেপ্তার দুই নেতা?

এর পর ১৪ অক্টোবর বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১১ অক্টোবর শান্তি বজায় রাখার যে বন্ডে তাঁরা সই করেছিলেন, তা ভঙ্গ করার অভিযোগও ওঠে। সেই সময় পর্যাপ্ত জামিনদারি জমা পড়েনি বলেও জানানো হয়। তার পর থেকেই মুক্তি নিয়ে জটিলতা চলছে।

ফের বিক্ষোভের পরিকল্পনা, দাবি পুলিশের

রবিবারের শুনানিতে পুলিশ দাবি করে, CJP নেতারা ফের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন। বিমানবন্দরে অভিজিৎ দীপকের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে CJP-র এক মুখপাত্র এই দাবি অস্বীকার করে জানান, নতুন কোনও বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেই। সমাজমাধ্যমেও এ নিয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি বলে দলের দাবি।

এ দিকে, শুনানির সময় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ কুমার মীনা হুমকি এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পরে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। সরকারি কাজে দায়িত্ব পালনের সময় হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সৌরভ ও আশুতোষের মুক্তি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। CJP-র দাবি, তাদের আন্দোলনকে দমন করতেই নেতাদের আটকে রাখা হচ্ছে। অন্য দিকে, পুলিশ বলছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে দুই নেতার মুক্তি নিয়ে জট কাটেনি। এখন নজর পরবর্তী শুনানি এবং পুলিশের তদন্তের দিকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks