দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা কিছুতেই কমছে না। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকার মুক্তি নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, মুক্তির শুনানির জন্য প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনও সুরাহা হল না। শুনানি চলল মাত্র ৮-১০ মিনিট। ফলে টানা ষষ্ঠ দিনেও জেল থেকে বেরোতে পারলেন না তাঁরা। অন্য দিকে, তাঁদের মুক্তির প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে CJP। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, মুক্তির জন্য জমা দেওয়া জামিনদারির কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে।
পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলল না মুক্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শুনানির কথা ছিল। CJP-র প্রতিনিধিদের দাবি, দুপুর দেড়টা থেকে ২টোর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট থানায় পৌঁছলেও শুনানি শুরু হয় বিকেল ৫টা নাগাদ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হওয়া শুনানি শেষ হয়ে যায় মাত্র কয়েক মিনিটে।
CJP-র অভিযোগ, ১৫ অক্টোবর থেকে বার বার জামিনদারির বন্ড জমা দেওয়া হলেও নানা অজুহাতে তা গ্রহণ করা হয়নি। কখনও ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানতের নথি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, কখনও আবার জামিনদারের দিল্লির ঠিকানা না থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে মুক্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে দাবি দলের নেতাদের।
দলের নেতা অভিজিৎ দীপকেরও অভিযোগ, সৌরভ ও আশুতোষকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখার সময় বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া চলছে। ত্রুটিপূর্ণ জামিনদারির বন্ড গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কেন গ্রেপ্তার দুই নেতা?
গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হন সৌরভ ও আশুতোষ। অভিযোগ, অন্য কয়েক জন CJP সদস্যের সঙ্গে তাঁরা যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। যন্তর মন্তরকে তত দিনে নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
{{/usCountry}}গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হন সৌরভ ও আশুতোষ। অভিযোগ, অন্য কয়েক জন CJP সদস্যের সঙ্গে তাঁরা যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। যন্তর মন্তরকে তত দিনে নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
{{/usCountry}}এর পর ১৪ অক্টোবর বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১১ অক্টোবর শান্তি বজায় রাখার যে বন্ডে তাঁরা সই করেছিলেন, তা ভঙ্গ করার অভিযোগও ওঠে। সেই সময় পর্যাপ্ত জামিনদারি জমা পড়েনি বলেও জানানো হয়। তার পর থেকেই মুক্তি নিয়ে জটিলতা চলছে।
ফের বিক্ষোভের পরিকল্পনা, দাবি পুলিশের
রবিবারের শুনানিতে পুলিশ দাবি করে, CJP নেতারা ফের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন। বিমানবন্দরে অভিজিৎ দীপকের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে CJP-র এক মুখপাত্র এই দাবি অস্বীকার করে জানান, নতুন কোনও বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেই। সমাজমাধ্যমেও এ নিয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি বলে দলের দাবি।
এ দিকে, শুনানির সময় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ কুমার মীনা হুমকি এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পরে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। সরকারি কাজে দায়িত্ব পালনের সময় হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সৌরভ ও আশুতোষের মুক্তি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। CJP-র দাবি, তাদের আন্দোলনকে দমন করতেই নেতাদের আটকে রাখা হচ্ছে। অন্য দিকে, পুলিশ বলছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে দুই নেতার মুক্তি নিয়ে জট কাটেনি। এখন নজর পরবর্তী শুনানি এবং পুলিশের তদন্তের দিকে।