CJP On Aishe Ghosh: নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের জেরে শুরু হওয়া পুলিশি ও আইনি পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে দিল্লি পুলিশ—এই অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে বাম ছাত্র সংগঠনের পাশে দাঁড়াল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে এফআইআর প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে সৌরভ দাস বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টকে সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যায় না। আদালতের নির্দেশকে অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত নয়। দেশের সামনে একটি অটুট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতির সম্মান রাখা দরকার। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।'
সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাঁদের মধ্যে অনেকেরই অতীতের অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। সেই যুক্তির পাল্টা জবাব দিয়েছেন সৌরভ দাস। তাঁর বক্তব্য, 'যদি সত্যিই কেউ অপরাধী হয়ে থাকে এবং এতদিন ধরে অবাধে ঘুরে বেড়িয়ে থাকে, তাহলে পুরনো মামলাগুলিতে তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করা উচিত ছিল পুলিশের। পুলিশকেই জবাব দিতে হবে, তারা এতদিন কীভাবে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু সেই অজুহাতে এফআইআর বহাল রেখে পরবর্তীতে প্রকৃত এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের নিশানা করা গ্রহণযোগ্য নয়।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার এই মামলাগুলিকে ভবিষ্যতে আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাঁর কথায়, 'সরকারকে যদি এই ছাড় দেওয়া হয়, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই এর অপব্যবহার করবে। দেশের যুবসমাজ কোনও অবস্থাতেই তা মেনে নেবে না। যারা একে অপরের ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছিল, আমরা সেই সমস্ত আন্দোলনকারীর পাশে আছি।'
{{/usCountry}}তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার এই মামলাগুলিকে ভবিষ্যতে আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাঁর কথায়, 'সরকারকে যদি এই ছাড় দেওয়া হয়, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই এর অপব্যবহার করবে। দেশের যুবসমাজ কোনও অবস্থাতেই তা মেনে নেবে না। যারা একে অপরের ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছিল, আমরা সেই সমস্ত আন্দোলনকারীর পাশে আছি।'
{{/usCountry}}অন্যদিকে, ছাত্রনেতা আশুতোষ রাঙ্কাও ঐশী ঘোষকে ঘিরে সম্ভাব্য পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ঐশী ঘোষের যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে সরকার এমন এক আন্দোলনের মুখোমুখি হবে, যা আগে কখনও দেখেনি। আমাদের সহকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করুন এবং যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা পালন করুন।'
এদিকে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়াও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে ছাত্রনেতা এবং আন্দোলনকারীদের বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এসএফআই তাদের কর্মী-সমর্থক এবং ছাত্রসমাজকে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। একদিকে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।