মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা আগেই করেছিল কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)। এবার সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করল সংগঠনটি। দলের সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টে একাধিক মামলা ও আবেদন জমা পড়লেও আদালতের রায় তাদের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত বদলাবে না। আদালত যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাঁরা নিজেদের দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সৌরভ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি আদালতে বিচারাধীন। তবে আদালত কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে বা আবেদনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক, CJP সেই সিদ্ধান্তকে নিজেদের আন্দোলনের চূড়ান্ত নির্ধারক হিসেবে মানবে না। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি আদালতের হাতে পুরোপুরি তুলে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বা বিচারব্যবস্থা—কোনও প্রতিষ্ঠানই গণতন্ত্রের উপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না; শেষ পর্যন্ত জনগণেরই সেই অধিকার রয়েছে।
নিজের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত SIR প্রসঙ্গও তোলেন সৌরভ দাস। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণের একটি অংশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়লে পরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে—এমন যুক্তি বাস্তব পরিস্থিতির সমস্যার সমাধান করে না। তবে এগুলি সৌরভ দাসের রাজনৈতিক বক্তব্য ও আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা।
এর মধ্যেই ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে CJP। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের আগে জানিয়েছিলেন, জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। দিল্লির কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। মুম্বই থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করার কথা থাকলেও সেখানে পুলিশের অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। শিবাজি পার্কে ২ অক্টোবরের সমাবেশের অনুমতি মুম্বই পুলিশ দেয়নি। পুলিশ সূত্রে হাই কোর্টের নির্দেশ, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না থাকা এবং যান চলাচলে সম্ভাব্য সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে CJP। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের আগে জানিয়েছিলেন, জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। দিল্লির কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। মুম্বই থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করার কথা থাকলেও সেখানে পুলিশের অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। শিবাজি পার্কে ২ অক্টোবরের সমাবেশের অনুমতি মুম্বই পুলিশ দেয়নি। পুলিশ সূত্রে হাই কোর্টের নির্দেশ, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না থাকা এবং যান চলাচলে সম্ভাব্য সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এর পরেই অভিজিৎ দীপকে ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছেন। এই ঘোষণার আগে সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে অসমে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল, যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, CJP-র সঙ্গে আগেও প্রকাশ্যে সমর্থনের সম্পর্ক থাকা সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, দেশে জবাবদিহি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন।
CJP-র এই অবস্থানের ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক আরও প্রকাশ্য পরিসরে এসেছে। আদালতে চলা মামলাগুলির পাশাপাশি রাস্তায় আন্দোলনের কর্মসূচিও একই সময়ে এগোচ্ছে। ফলে আগামী ২ অক্টোবরের কর্মসূচি এবং তার আগে আদালতগুলির সিদ্ধান্ত—দুই দিকেই নজর থাকবে।