...
...
Next Story

CJP-র যন্তর মন্তর বিক্ষোভে বলপ্রয়োগ কাণ্ডে নয়া মোড়, রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আবেদনকারী ২৫ বছরের শেখ ইরশাদ মনসুরির চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকো-লিগ্যাল কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একাধিক ধাতব বস্তু বের করা হয়েছে।

Published on: Jul 30, 2026, 08:43:07 IST
Advertisement

CJP Protest Update: দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ জুলাই হওয়া ছাত্রদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বলপ্রয়োগের অভিযোগে নতুন মোড় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আবেদনকারী ২৫ বছরের শেখ ইরশাদ মনসুরির চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকো-লিগ্যাল কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একাধিক ধাতব বস্তু বের করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ জুলাই হওয়া ছাত্রদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বলপ্রয়োগের অভিযোগে নতুন মোড় এসেছে। (PTI)
দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ জুলাই হওয়া ছাত্রদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বলপ্রয়োগের অভিযোগে নতুন মোড় এসেছে। (PTI)

শেখ ইরশাদ মনসুরির এমএলসি রিপোর্টটি ২৪ জুলাই দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের কান, নাক ও গলা বিভাগের তরফে তৈরি করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২১ জুলাই সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথা ও গলার একাধিক জায়গায় বিদেশি ধাতব বস্তু আটকে ছিল।

অস্ত্রোপচারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ডান দিকের মুখের ভিতর, ঠোঁটের নিচে, কাঁধ, গলা এবং কপাল থেকে প্রায় ২ মিলিমিটার আকারের একাধিক ধাতব বস্তু বের করা হয়েছে। এছাড়া বাঁ চোখের আশপাশেও অস্ত্রোপচার করে একটি ৩ মিলিমিটার আকারের ধারালো ধাতব বস্তু বের করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বস্তুটি শক্ত, চকচকে এবং ধাতব বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছিল।

মনসুরি জানিয়েছেন, তাঁর শরীর থেকে মোট সাতটি এমন ধাতব বস্তু বের করা হয়েছে। তবে এখনও মুখের আশপাশে কয়েকটি রয়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, সেগুলি এখনই অস্ত্রোপচার করে বের করার প্রয়োজন নেই। কারণ তা করতে গেলে শরীরের আরও ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেছেন, অস্ত্রোপচারে বের হওয়া ধাতব বস্তুগুলি তাঁকে দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল সেগুলি নিজেদের কাছেই সংরক্ষণ করছে। এই ধাতব বস্তুগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

প্রশান্ত সিংয়ের দাবি, চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন তাঁর শরীরে এখনও প্রায় ২০টি ধাতব পেলেটের মতো বস্তু রয়েছে। তবে সংক্রমণ না হলে সেগুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচার করা হবে না। তাঁকে একই দিন হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আরেক আবেদনকারী নূতন টোপ্পোর হাসপাতালের নথিতে ডান কানের কাছে সন্দেহভাজন গুলির আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ এই দাবির বিরোধিতা করেছে।

বুধবার দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক মাধ্যমে গুলির আঘাতের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট এমএলসি রিপোর্টে সমর্থন পায়নি। পুলিশের বক্তব্য, এক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের রিপোর্টে কেবল ভোঁতা আঘাতের কথা বলা হয়েছে এবং গুলির আঘাতের কোনও প্রমাণ নেই। তাই মানুষকে যাচাই না করে তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে পুলিশ।

তবে একই সময়ে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। পুলিশের সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্ত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) অন্তত দু'দফায় পেলেট ব্যবহার করেছিল। এই তথ্য একজন ডেপুটি কমান্ডারের বয়ানের ভিত্তিতে নথিভুক্ত হয়েছে। সেই ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে সিআরপিএফ।

দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সাধারণত আধাসামরিক বাহিনী নিজেদের দাঙ্গা মোকাবিলার সরঞ্জাম নিয়ে আসে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর নিরাপত্তা বাহিনীকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই সরঞ্জামের মধ্যে প্লাস্টিক পেলেট, ধাতব পেলেট, টিয়ার গ্যাস এবং শক ব্যাটন থাকে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না আহতদের শরীরে যে বস্তুগুলি পাওয়া গেছে, সেগুলি ধাতব পেলেট নাকি প্লাস্টিক পেলেট। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধাতব পেলেট ব্যবহারের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত সাত রাউন্ড পেলেট ছোড়া হয়েছিল এবং প্রায় ছয়জনের শরীরে পেলেটজাতীয় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তাঁদের চিকিৎসার সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় একদিকে আহতদের চিকিৎসার রিপোর্ট, অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য এবং আধাসামরিক বাহিনীর তদন্ত—সব মিলিয়ে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে ঠিক কী ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe