অসমে নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। কারণ, এবার ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন অসমের রাজস্বমন্ত্রী কেশব মহন্তের মেয়ে দিবিসা মহন্ত। গুয়াহাটির চাচলে ছাত্রদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলেন। শুধু তাই নয়, আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির চাচলে ছাত্র সংগঠনগুলির উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বহু পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের সঙ্গেই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন দিবিসা মহন্ত।
দিবিসাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্লোগান দিতে এবং বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, তাঁর বাবা কেশব মহন্ত অসম গণ পরিষদের (এজিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। ২০১৬ সাল থেকে তিনি অসম সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে জোট সরকারের এক মন্ত্রীর মেয়ের বিরোধী সুরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পরিবারের একজন যদি প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে কী বার্তা বহন করছে।
তবে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ছাত্রদের গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং সরকার সেই অধিকারকে সম্মান করে। তাঁর কথায়, “এটি ছাত্রদের আন্দোলন। তাদের দাবি এবং বক্তব্যকে আমরা সম্মান করি। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।”
{{/usCountry}}তবে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ছাত্রদের গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং সরকার সেই অধিকারকে সম্মান করে। তাঁর কথায়, “এটি ছাত্রদের আন্দোলন। তাদের দাবি এবং বক্তব্যকে আমরা সম্মান করি। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।”
{{/usCountry}}একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে অসম ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি সকলকে অনুরোধ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে। তাঁর মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যা মোকাবিলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। আন্দোলনের সময় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়ে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, তখন অসমে এক মন্ত্রীর মেয়ের ছাত্র আন্দোলনে যোগদান নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। যদিও সরকার বিষয়টিকে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হিসেবেই দেখছে, তবু এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।