চিন সীমান্তের কাছে উত্তরাখণ্ডের মাণা গ্রামে সেনা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় অসম রেজিমেন্টের এক মেজর-সহ ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। অভিযোগ, সীমান্তবর্তী দেশের প্রথম গ্রাম হিসেবে পরিচিত মাণায় গাড়ি পরীক্ষা করাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বচসা এবং পরে পুলিশ, হোমগার্ড ও সেনা জওয়ানদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তরফেও নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ মাণা গ্রামের কাছে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন পরীক্ষা করছিল পুলিশ। সেই সময় এলাকায় কাঁওয়ারিয়াদের ভিড় থাকায় যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একের পর এক গাড়ি পরীক্ষা করার কারণে কিছুটা দেরিও হচ্ছিল। সেই সময় ৬৪ ইঞ্জিনিয়ারিং অসম রেজিমেন্টের মেজর অনমোল প্রীত নিজের গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছন।
অভিযোগ, গাড়ির নথিপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে মেজরের সঙ্গে কর্তব্যরত এক হোমগার্ড কর্মীর বচসা শুরু হয়। প্রথমে পরিস্থিতি কথাকাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে মেজর ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি আরও কয়েকজন সেনা জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, ফিরে এসে সেনা জওয়ানরা ওই হোমগার্ড কর্মীর সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বদরিনাথ থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর এবং এক পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, এরপর তাঁদের সঙ্গেও সেনা জওয়ানদের বচসা ও হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর সেনা জওয়ানরা সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার পর পুলিশ কনস্টেবল বিজয় সিংয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বদরিনাথ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এফআইআরে মেজর অনমোল প্রীত এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ানের নাম রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার পর তদন্তের কাজও শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}ঘটনার পর পুলিশ কনস্টেবল বিজয় সিংয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বদরিনাথ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এফআইআরে মেজর অনমোল প্রীত এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ানের নাম রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার পর তদন্তের কাজও শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}চামোলির পুলিশ সুপার সুরজিৎ সিং পাঁওয়ার জানিয়েছেন, মারামারির ঘটনায় মেজর-সহ অন্যান্য সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে অসম রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষের বক্তব্য জানার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযোগকারীর বয়ান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যে তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে, সেনা কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সংশ্লিষ্ট রেজিমেন্টের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ স্তরেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বা অভিযুক্ত জওয়ানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
চিন সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মাণায় সেনা ও পুলিশের মধ্যে এমন সংঘর্ষের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও সেনা—দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে আসার পরই গোটা ঘটনার পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।