...
...
Next Story

চিন সীমান্তের কাছে সেনা-পুলিশ সংঘাত, মাণা গ্রামে মেজর-সহ ১১ জওয়ানের বিরুদ্ধে FIR

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ মাণা গ্রামের কাছে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন পরীক্ষা করছিল পুলিশ। সেই সময় এলাকায় কাঁওয়ারিয়াদের ভিড় থাকায় যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একের পর এক গাড়ি পরীক্ষা করার কারণে কিছুটা দেরিও হচ্ছিল।

Published on: Aug 10, 2026, 11:49:51 IST
Advertisement

চিন সীমান্তের কাছে উত্তরাখণ্ডের মাণা গ্রামে সেনা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় অসম রেজিমেন্টের এক মেজর-সহ ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। অভিযোগ, সীমান্তবর্তী দেশের প্রথম গ্রাম হিসেবে পরিচিত মাণায় গাড়ি পরীক্ষা করাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বচসা এবং পরে পুলিশ, হোমগার্ড ও সেনা জওয়ানদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তরফেও নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

অসম রেজিমেন্টের এক মেজর-সহ ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। (Abhishek Saha)
অসম রেজিমেন্টের এক মেজর-সহ ১০ জনেরও বেশি সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। (Abhishek Saha)

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ মাণা গ্রামের কাছে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন পরীক্ষা করছিল পুলিশ। সেই সময় এলাকায় কাঁওয়ারিয়াদের ভিড় থাকায় যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একের পর এক গাড়ি পরীক্ষা করার কারণে কিছুটা দেরিও হচ্ছিল। সেই সময় ৬৪ ইঞ্জিনিয়ারিং অসম রেজিমেন্টের মেজর অনমোল প্রীত নিজের গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছন।

অভিযোগ, গাড়ির নথিপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে মেজরের সঙ্গে কর্তব্যরত এক হোমগার্ড কর্মীর বচসা শুরু হয়। প্রথমে পরিস্থিতি কথাকাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে মেজর ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি আরও কয়েকজন সেনা জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, ফিরে এসে সেনা জওয়ানরা ওই হোমগার্ড কর্মীর সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বদরিনাথ থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর এবং এক পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, এরপর তাঁদের সঙ্গেও সেনা জওয়ানদের বচসা ও হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর সেনা জওয়ানরা সেখান থেকে চলে যান।

চামোলির পুলিশ সুপার সুরজিৎ সিং পাঁওয়ার জানিয়েছেন, মারামারির ঘটনায় মেজর-সহ অন্যান্য সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে অসম রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষের বক্তব্য জানার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযোগকারীর বয়ান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যে তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

অন্যদিকে, সেনা কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সংশ্লিষ্ট রেজিমেন্টের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ স্তরেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বা অভিযুক্ত জওয়ানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

চিন সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মাণায় সেনা ও পুলিশের মধ্যে এমন সংঘর্ষের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও সেনা—দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে আসার পরই গোটা ঘটনার পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe