যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু থাকা এইচ-১বি (H-1B) এবং PERM কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগে বড় তদন্ত শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি শ্রমিক সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। তদন্তের আওতায় ইতিমধ্যেই একাধিকবার সমন জারি করা হয়েছে। তদন্তে ভারতের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কগনিজ্যান্টের নামও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন শ্রম দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক।

মার্কিন শ্রম দফতরের ইনস্পেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি'এসপোসিটো এক সাক্ষাৎকারে জানান, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শ্রম পাচার, ভিসা জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে বহু সমন পাঠানো হয়েছে এবং আরও বিস্তৃত তদন্ত চলবে।
ডি'এসপোসিটো বলেন, হুইসেলব্লোয়ারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে এসেছে। তিনি বিশেষভাবে কগনিজ্যান্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, তদন্তকারীরা প্রতিটি সূত্র খতিয়ে দেখবেন এবং কোনও অভিযোগকেই হালকাভাবে নেওয়া হবে না।
এইচ-১বি ভিসা হল এমন একটি অ-অভিবাসী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন সংস্থাগুলি বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাদারদের নিয়োগ করে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রকৌশল এবং অন্যান্য পেশায় এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। অন্যদিকে, PERM কর্মসূচি বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে মার্কিন শ্রমবাজারে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করার একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।
মার্কিন শ্রম দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে এমন কিছু চক্রের সন্ধান মিলেছে, যেখানে নিয়োগকারী সংস্থা এবং শ্রম সরবরাহকারী এজেন্টরা ভুয়ো আবেদন জমা দিয়ে বিদেশি কর্মীদের শোষণ করেছে। অভিযোগ, কর্মীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে বেতনের একটি অংশ ফেরত নেওয়া, ভয় দেখানো এবং জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের অনিয়ম বিদেশি শ্রমিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকে নষ্ট করছে এবং মার্কিন কর্মসংস্থানেরও ক্ষতি করছে।
{{/usCountry}}মার্কিন শ্রম দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে এমন কিছু চক্রের সন্ধান মিলেছে, যেখানে নিয়োগকারী সংস্থা এবং শ্রম সরবরাহকারী এজেন্টরা ভুয়ো আবেদন জমা দিয়ে বিদেশি কর্মীদের শোষণ করেছে। অভিযোগ, কর্মীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে বেতনের একটি অংশ ফেরত নেওয়া, ভয় দেখানো এবং জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের অনিয়ম বিদেশি শ্রমিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকে নষ্ট করছে এবং মার্কিন কর্মসংস্থানেরও ক্ষতি করছে।
{{/usCountry}}ডি'এসপোসিটো আরও দাবি করেন, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু আর্থিক অনিয়মেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে মানব পাচার, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র এবং সংগঠিত অপরাধেরও যোগ থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিকদের ব্যবহার করে অপরাধচক্র লাভবান হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, এই অনিয়ম শুধু কারখানা বা শ্রমঘন শিল্পে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসাকেন্দ্র, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের চেম্বারেও এই ধরনের ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রোগীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই তদন্তে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের জালিয়াতি দমন টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে শ্রম দফতরের তদন্তকারী দল। প্রশাসনের লক্ষ্য, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার রোধ করা এবং নিশ্চিত করা যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নামে কোনও সংস্থা বেআইনিভাবে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে না পারে।