মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার পন্ধরপুর শহরে সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র উঠে এল। ইদ-উল-আজহা উপলক্ষে কোরবানির সময় পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়। উল্লেখ্য, আজ আষাঢ়ী একাদশী। এই আবহে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই স্থানীয় বহু মুসলিম পরিবার কোরবানি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, পন্ধরপুর মহারাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর। আষাঢ়ী একাদশীর সময় সেখানে লক্ষাধিক ভক্ত সমবেত হন ভগবান বিঠোবার মন্দিরে দর্শনের জন্য। সেই আবহেই ইদ-উল-আজহার সময় কোরবানির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ সিদ্ধান্ত নেয়, একাদশীর দিন কোরবানি না করে তা পরে করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় মুসলিম নেতারা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরেই পন্ধরপুরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যের পরিবেশ রয়েছে। একাদশীর সময় শহরে বিশাল সংখ্যক ভক্ত আসেন। তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের তরফেও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রশাসনের তরফেও শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে উৎসবগুলি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের উপর জোর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের একাংশের মতে, পন্ধরপুরে এই ধরনের পারস্পরিক বোঝাপড়া নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন উৎসবের সময়ে দুই সম্প্রদায় একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই একে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বর্তমানে উৎসবের মরসুমে শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।