...
...
Next Story

Congress-CJP Update: ‘আপের প্রক্সি’ বলে দূরত্ব, সেই সিজেপিকেই কাছে টানতে চায় কংগ্রেস! মধ্যস্থতায় প্রশান্ত ভূষণ

সিজেপির নেতৃত্বকে কাছে টানার উদ্যোগ নিল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মাধ্যমে সিজেপি নেতাদের বিরোধী জোটের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ওই বৈঠক বসেছিল।

Published on: Oct 15, 2026, 10:50:22 IST
Advertisement

এক সময় সন্দেহের চোখে দেখেছিল কংগ্রেস। অভিযোগ তুলেছিল, আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক স্বার্থেই কাজ করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের উত্তাপ বাড়তেই বদলাচ্ছে বিরোধী শিবিরের সমীকরণ। এ বার সিজেপির নেতৃত্বকে কাছে টানার উদ্যোগ নিল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মাধ্যমে সিজেপি নেতাদের বিরোধী জোটের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ওই বৈঠক বসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে যোগ দেয়নি সিজেপি। সংগঠনটিকে নিয়ে বৈঠকে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়নি। তবু এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

কেন এই পরিবর্তন?

সিজেপিকে কাছে টানতে চায় কংগ্রেস! (Hindustan Times)
সিজেপিকে কাছে টানতে চায় কংগ্রেস! (Hindustan Times)

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি। একই দাবিতে সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিও। কিন্তু এত দিন একই বিষয়ে আন্দোলন করলেও কংগ্রেস ও সিজেপির কর্মসূচি আলাদা ছিল।

আগে সিজেপির আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল কংগ্রেস। দলের একাংশ সংগঠনটিকে আপের ‘প্রক্সি’ বলে আক্রমণ করেছিল। এমনকি সিজেপি কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি আন্দোলনকারী সংগঠন, এমন বক্তব্যও শোনা গিয়েছিল কংগ্রেসের অন্দরে।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এসআইআর নিয়ে আন্দোলনে নাগরিক সমাজ, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। সেই সূত্রেই প্রশান্ত ভূষণের মাধ্যমে সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ বলে খবর।

‘সব আন্দোলনই এক’

বুধবার সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর তাঁদের গ্রেফতারির বিরোধিতা করেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। তার জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষতার পরিচয়।

রাহুলের এই মন্তব্যকে সিজেপির প্রতি কংগ্রেসের মনোভাব বদলের ইঙ্গিত হিসাবেই দেখা হচ্ছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাহুলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তবে জোট এখনও অধরা

রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের এই উদ্যোগের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এক দিকে এসআইআর নিয়ে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করা, অন্য দিকে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনের সময়ও সিজেপি যন্তর মন্তরে দীর্ঘ বিক্ষোভ করেছিল। সে বার কংগ্রেসের তুলনায় সিজেপিই বেশি প্রচারের আলোয় এসেছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তবে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস ও সিজেপির মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি। মঙ্গলবারের বৈঠকেও সিজেপির প্রতিনিধিরা যোগ দেননি। ফলে এই যোগাযোগ বিরোধী আন্দোলনকে এক মঞ্চে আনতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবু একটি বিষয় পরিষ্কার, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের পুরনো দূরত্ব কমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এ বার সেই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, নজর থাকবে সেদিকেই।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks