...
...
Next Story

Congress gave ₹81 Lakhs to Indian Express: ভোটের প্রচারের খরচের নথিতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের নাম, ৮১ লাখ দিয়েছে কংগ্রেস!

প্রকাশিত নথিতে পশ্চিমবঙ্গের অংশে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর পাশে ১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল এবং ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতে মোট খরচ দেখানো হয়েছে ৮১,৪৫,৭৮০ টাকা। একই নথিতে ‘আর প্লাস’ টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য ৪৬,৩৮,২৩৪ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।

Published on: Sep 28, 2026, 14:04:16 IST
Advertisement

নির্বাচনী ব্যয়ের একটি নথি ঘিরে ফের আলোচনায় কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। সমাজমাধ্যমে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ মহেশ জেঠমালানি একটি নথির ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন চলাকালীন কংগ্রেস ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ ৮১ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছে। তাঁর পোস্টে কর্নাটকের নির্বাচনের সময়ও একই সংবাদপত্রের জন্য আরও বড় অঙ্কের ব্যয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের একটি নথি ঘিরে ফের আলোচনায় কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
নির্বাচনী ব্যয়ের একটি নথি ঘিরে ফের আলোচনায় কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।

প্রকাশিত নথিতে পশ্চিমবঙ্গের অংশে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর পাশে ১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল এবং ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতে মোট খরচ দেখানো হয়েছে ৮১,৪৫,৭৮০ টাকা। একই নথিতে ‘আর প্লাস’ টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য ৪৬,৩৮,২৩৪ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ওই অংশে দুই মাধ্যম মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১,২৭,৮৪,০১৪ টাকা।

এই খরচের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রার্থীদের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে সংবাদপত্র এবং অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার করতে হয়। নথিতে সেই ধরনের প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যয়ের হিসাব থাকার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র অঙ্কটি দেখে এটিকে সাধারণ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

মহেশ জেঠমালানির পোস্টে কর্নাটকের ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত আরও একটি নথি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ‘উদয় কালা অ্যান্ড ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ নামে সংবাদপত্রের জন্য ২০ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১,৪০,২৯,৬৯০ টাকা এবং ৩ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত ৯২,৪৩,৯৭৫ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। অর্থাৎ দুই দফায় মোট ২,৩২,৭৩,৬৬৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নথিতে এই হিসাব ‘ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্টস’ প্রকাশের ব্যয়ের অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলির একাংশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে নির্বাচন কমিশন পাল্টা জানায়, তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি তিন সদস্যের পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক এবং আলাদা কিছু নোটকে সামনে এনে গোটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বিচার করা ঠিক নয়।

ফলে কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যয়ের এই নথি এবং ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, দুটি বিষয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে এমন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। এক দিকে রয়েছে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব, অন্য দিকে কমিশনের কাজ নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন। এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্কের দাবি আপাতত রাজনৈতিক বক্তব্যের স্তরেই রয়েছে।

মহেশ জেঠমালানি অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, আরও নথি সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী দিনে নির্বাচনী ব্যয় এবং সংবাদমাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলির অর্থ খরচ নিয়ে নতুন কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসে কি না, এখন সে দিকেই নজর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks