লোকসভার অন্দরে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন দুই দলের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদের দলবদলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। দুই নেতার কথোপকথনের ভিডিও সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন ২০ জন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রাক্তন চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, উপনেত্রী শতাব্দী রায় এবং অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) ও সায়নী ঘোষ। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর এই ভাঙন তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই যোগদানের ফলে এনডিএ-র রাজনৈতিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা তো কংগ্রেস থেকে বহু নেতাকে তৃণমূলে নিয়ে গিয়েছিলেন।” জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমিও একসময় কংগ্রেসে ছিলাম। যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ছিলাম। আপনাদের দলই দিদিকে কংগ্রেস ছাড়তে বাধ্য করেছিল।”
এর উত্তরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “রাজীব গান্ধী দিদিকে খুবই সম্মান করতেন।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই বক্তব্যে সম্মতি জানান। এরপর তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছাড়ার পর বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও কংগ্রেস পরে সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে।
পরে কংগ্রেস সাংসদ পাপ্পু যাদব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে কংগ্রেস কি তৃণমূলের পাশে রয়েছে? জবাবে কল্যাণ সম্মতি জানালে দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
{{/usCountry}}পরে কংগ্রেস সাংসদ পাপ্পু যাদব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে কংগ্রেস কি তৃণমূলের পাশে রয়েছে? জবাবে কল্যাণ সম্মতি জানালে দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
{{/usCountry}}এদিকে দলত্যাগী ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ফের আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। দলের লোকসভা নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে চিঠি লিখে জানান, পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় ওই সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জমা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও নোটিস জারি করা হয়নি বা শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়নি।
চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর রাখতে স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতা যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই প্রয়োগ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, বিদ্রোহী ২০ সাংসদ দলত্যাগবিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্য ঘোষণার যোগ্য এবং দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
সংসদের অন্দরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন এবং বিদ্রোহী সাংসদদের ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।