...
...
Next Story

রামলীলা ময়দানের ভিড় দেখাতে এআইয়ের সাহায্য কংগ্রেসের! ছবি নিয়ে কটাক্ষ কিরেন রিজিজুর, ‘ঠিক করে তৈরি করতেও পারেনি’

ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রবিবার সভা করেছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। সেই সভায় লোকসমাগমের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

Published on: Nov 2, 2026, 11:12:10 IST
Advertisement

দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রবিবার সভা করেছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। সেই সভায় লোকসমাগমের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর অভিযোগ, সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। শুধু তা-ই নয়, ছবিটি তৈরি করার ক্ষেত্রেও ভুল রয়ে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। রিজিজুর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে।

রামলীলা ময়দানের ভিড় দেখাতে এআইয়ের সাহায্য কংগ্রেসের! ছবি নিয়ে কটাক্ষ রিজিজুর
রামলীলা ময়দানের ভিড় দেখাতে এআইয়ের সাহায্য কংগ্রেসের! ছবি নিয়ে কটাক্ষ রিজিজুর

সোমবার সমাজমাধ্যম এক্সে একটি ছবি পোস্ট করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, রামলীলা ময়দান কানায় কানায় ভর্তি দেখানোর জন্য এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই ছবিও ঠিক ভাবে তৈরি করতে পারেনি কংগ্রেসের প্রচার বিভাগ। ইংরেজিতে পোস্ট করে তিনি লেখেন, রামলীলা ময়দান ভর্তি দেখাতে কংগ্রেস অন্তত এআই দিয়ে তৈরি ছবিটি ঠিকঠাক বানাতে পারত। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো প্রচারের কৌশল নিয়েও সঠিক ভাবে এগোতে পারেনি বিরোধী দল।

১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের দাবি

উল্লেখ্য, রবিবারের সমাবেশের আগে রামলীলা ময়দানে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছিল কংগ্রেস। শুধু দিল্লি নয়, বিভিন্ন রাজ্য থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সমাবেশের আয়োজনের জন্য ২০টি পৃথক কমিটিও তৈরি করেছিল দিল্লি কংগ্রেস। কিন্তু সভার পর সেই ভিড়ের পরিমাণ নিয়েই প্রশ্ন তোলে বিজেপি।

বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র দাবি করেন, কংগ্রেস যেখানে ১০ লক্ষ মানুষের উপস্থিতির কথা বলেছিল, সেখানে ময়দানের একটা বড় অংশ ফাঁকা ছিল। তাঁর বক্তব্য, ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার চেয়ার খালি ছিল। ময়দানের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাও ফাঁকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই বক্তব্যকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন রিজিজু।

রবিবারের এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, ফারুক আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি।

সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয় বিরোধী জোট। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক লড়াই চালানো হবে।

এখন বিরোধীদের সমাবেশের মূল রাজনৈতিক বার্তাকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জনসমাগমের ছবি। বাস্তবে কত মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশিত ছবিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেসকে আক্রমণ জারি রেখেছে বিজেপি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks