২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বংলাদেশে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলকারী সেনা-নিয়ন্ত্রিত ‘ওয়ান ইলেভেন’ সরকারের অন্যতম কুশীলব এবং কূটনীতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবল পরাক্রমী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার ওই অবসরপ্রাপ্ত অফিসার বর্তমানে ঢাকায় একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁর মালিক।

অবসরপ্রাপ্ত এই তারকা জেনারেলকে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি জাতীয় পার্টির টিকিটে এমপি হয়েছিলেন ২০১৮ সালে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানান, পুরনো পাঁচটি মামলায় ওই প্রাক্তন সেনা কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সেসব মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিভাবে জানাতে পারেননি তিনি। পুলিশ বলছে, বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে প্ৰাক্তন এই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশ সেনা ও পুলিশ বাহিনী সূত্রের খবর, চাকরি জীবনে এই সেনাকর্তা অত্যন্ত বিতর্কিত ছিলেন। ২০০৭-'০৮সালে বাংলাদেশের যে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ-সহ রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন পীড়ন চালিয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি'র খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লিগের শেখ হাসিনাকে। গ্রেফতার করা হয় খালেদা পুত্র তথা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও।
সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর ওই দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তখন মাসুদ উদ্দিনের নির্দেশে এই তিন নেতা-নেত্রীর উপর জেলে অত্যাচারের অভিযোগ ছিল। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করা হয়েছিল তারেক রহমান ও তাঁর ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। খালেদার ছোট ছেলে কোকো গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিদেশে হাসপাতালে মারা যান। অন্যদিকে, মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা নিয়ে ইংল্যান্ডের চিকিৎসা করাতে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর সেখানে রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন। এখন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রাক্তন সেনা কর্তা মাসুদ উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর জল্পনা শুরু হয়েছে তাহলে কী তারেক রহমান এবার বদলা নিতে শুরু করলেন?
{{/usCountry}}সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর ওই দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তখন মাসুদ উদ্দিনের নির্দেশে এই তিন নেতা-নেত্রীর উপর জেলে অত্যাচারের অভিযোগ ছিল। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করা হয়েছিল তারেক রহমান ও তাঁর ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। খালেদার ছোট ছেলে কোকো গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিদেশে হাসপাতালে মারা যান। অন্যদিকে, মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা নিয়ে ইংল্যান্ডের চিকিৎসা করাতে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর সেখানে রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন। এখন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রাক্তন সেনা কর্তা মাসুদ উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর জল্পনা শুরু হয়েছে তাহলে কী তারেক রহমান এবার বদলা নিতে শুরু করলেন?
{{/usCountry}}মাসুদ উদ্দিনকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকাকালেই তার বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ সবচেয়ে জোরালো ছিল। বিতর্কের মুখে ২০০৮ সালের জুনে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লিগ সরকারও তাঁকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে বহাল রাখে। সেই থেকে তিনি আওয়ামী লিগের ঘরের লোক বলে পরিচিত। আর তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান যেমন শেখ হাসিনার আত্মীয় তেমনই মাসুদ উদ্দিন খালেদা জিয়ার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। খালেদা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মাসুদ উদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হন। সেই তাঁর বিরুদ্ধে খালেদার সঙ্গে বেইমানি করার অভিযোগ ওঠে। যেমন একই অভিযোগ উঠেছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের বিরুদ্ধে। বিএনপির বরাবরের অভিযোগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং প্রায় দু বছর তাদের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন। সময় মত ভোট হলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসতো বলে দলটি মনে করে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে ২০০৮ -এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় আওয়ামী লিগ। সেই থেকে টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিল দলটি। অন্যদিকে একটানা দু দশক ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি।