ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কুনওয়ার বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিলেন রাজ্যপাল মঙ্গুভাই প্যাটেল। সোমবার গভীর রাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করে তিনি জানিয়ে দেন, শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রসিকিউশন স্যাংশন দেওয়া হবে না। এর ফলে এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তের পরবর্তী ধাপও বদলে গেল।

ঘটনাটি সামনে আসে ২০২৫ সালের মে মাসে। মহুতে আয়োজিত একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বিজয় শাহ এমন মন্তব্য করেছিলেন, যা ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে বিতর্ক তৈরি হয়। অপারেশন সিঁদুরের সময় কর্নেল সোফিয়া কুরেশি, উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের কাছে ভারতের সামরিক অভিযান সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন।
বিতর্কের পর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ১৪ মে ২০২৫ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি গ্রহণ করে পুলিশকে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। পরে ইন্দোর জেলার মানপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। তবে এফআইআর কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট এবং তদন্তের উপর নজরদারি শুরু করে।
এরপর বিজয় শাহ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ১৯ মে ২০২৫ সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে গ্রেফতার থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয় এবং তদন্তের জন্য তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে। ওই তদন্তে শাহকে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এসআইটি পরবর্তীতে তদন্ত শেষ করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ নম্বর ধারায় বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অগস্ট থেকেই এসআইটির রিপোর্ট ও প্রসিকিউশন স্যাংশনের আবেদন রাজ্য সরকারের বিবেচনায় ছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার মধ্যপ্রদেশ সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলে।
{{/usCountry}}এসআইটি পরবর্তীতে তদন্ত শেষ করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ নম্বর ধারায় বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অগস্ট থেকেই এসআইটির রিপোর্ট ও প্রসিকিউশন স্যাংশনের আবেদন রাজ্য সরকারের বিবেচনায় ছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার মধ্যপ্রদেশ সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলে।
{{/usCountry}}চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, এতদিন ধরে এসআইটির রিপোর্ট সরকারের কাছে থাকার পরও কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরে ৮ মে-র শুনানিতেও আদালত রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানতে চায়।
অবশেষে ২৫ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভা বিজয় শাহের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন স্যাংশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সুপারিশ রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়। সোমবার, ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও রাজ্যপালের কাছে বিবেচনাধীন। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ আদালতকে জানান, এসআইটি তদন্ত শেষ করেছে এবং অনুমোদনের ফাইল রাজ্যপালের বিবেচনায় রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, সিদ্ধান্তের পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। এসআইটির আধিকারিক জানান, অনুমোদন মিললে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। আর অনুমোদন না মিললে তদন্তকারী সংস্থা ক্লোজার রিপোর্ট দাখিল করবে। এরপর আদালত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শুনানি মুলতুবি করে।
বিজয় শাহের আইনজীবী বর্ষীয়ান আইনজীবী মনিন্দর সিং সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন, মন্ত্রী ইতিমধ্যেই তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং সেই ক্ষমাপ্রার্থনার বিষয়টি যেন প্রসিকিউশন স্যাংশন দেওয়ার সময় বিবেচনা করা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অবশ্য এ বিষয়ে কোনও মতামত প্রকাশ করেননি।
তবে রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেস বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল বিরোধী দলনেতা উমং সিঙ্গারের নেতৃত্বে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছে। সিঙ্গার ইতিমধ্যেই বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে রাজ্যসভা সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিবেক তানখা মধ্যপ্রদেশের ২০০৪ সালের একটি মামলার নজির সামনে এনেছেন। সেই মামলায় মন্ত্রিসভা প্রসিকিউশন স্যাংশন প্রত্যাখ্যান করলেও রাজ্যপাল স্বাধীনভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালত জানিয়েছিল, সাধারণত রাজ্যপাল মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন, তবে অসাধারণ পরিস্থিতিতে পক্ষপাত, অযৌক্তিকতা বা প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা না করার মতো কারণ থাকলে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
ফলে বিজয় শাহ মামলায় রাজ্যপালের বর্তমান সিদ্ধান্ত আইনি ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন মূল প্রশ্ন, ক্লোজার রিপোর্ট জমা পড়ার পর এই মামলা কোন পথে এগোয় এবং সুপ্রিম কোর্ট ভবিষ্যতে বিষয়টিতে কী অবস্থান নেয়।