এক দিকে আবেগে ভাসছে বুয়েনস আইরেস। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ বার মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি। অন্য দিকে ঠিক সেই সময়েই বিস্ফোরক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নেপথ্য কাহিনি প্রকাশ্যে এনে সরাসরি কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ তুললেন পর্তুগিজ মহাতারকা। প্রায় ২,০০০ শব্দের দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চাইলেন তিনি। কিন্তু একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট গুরুতর।

রোনাল্ডোর অভিযোগ, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে জেসাসের সঙ্গে তাঁর একটি পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললেও পর্তুগালেই থেকে যাওয়ার কথা ছিল না তাঁর। অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন সফরে যাবে, তখন তিনি দেশে থেকে যাবেন—এমন উদাহরণ তৈরি করতে চাননি রোনাল্ডো। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বদল হয়। জেসাস তাঁকে নরওয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ মিনিট খেলানোর কথা জানান।
সেখানেই শুরু হয় সংঘাত। রোনাল্ডোর দাবি, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তিনি ওয়ার্ম-আপ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি তাঁকে। তাঁর বক্তব্য, কোচের কথায় আস্থা রেখেই তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন। অথচ সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এখান থেকেই জেসাসের উপর তাঁর ‘বিশ্বাসের ভাঙন’ শুরু বলে জানিয়েছেন রোনাল্ডো।
এর পরেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রোনাল্ডোর দাবি, জেসাসের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ডেনমার্ক ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে কোচ বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করবেন এবং স্বীকার করবেন যে রোনাল্ডো খেলতে জোর দেননি। কিন্তু সেই সাংবাদিক বৈঠকে জেসাসের বক্তব্য নাকি তাঁদের মধ্যে হওয়া কথাবার্তার সঙ্গে মিল ছিল না। বরং কোচের আচরণে ‘আগ্রাসন’ দেখেছিলেন রোনাল্ডো। তাঁর অভিযোগ, এটাই ছিল দ্বিতীয় বার কোচের কথা না রাখা।
এর পরেই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনাল্ডো। তবে নিজের সেই সিদ্ধান্তের দায় এড়াননি তিনি। সতীর্থ ও পর্তুগাল সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁর ঠিক হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি শাস্তি দেয়, সেই শাস্তিও মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আরও বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}এর পরেই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনাল্ডো। তবে নিজের সেই সিদ্ধান্তের দায় এড়াননি তিনি। সতীর্থ ও পর্তুগাল সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁর ঠিক হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি শাস্তি দেয়, সেই শাস্তিও মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আরও বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}তবে গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অন্যত্র। ৪১ বছরের রোনাল্ডো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্তুগালের দরজা তাঁর জন্য এখনও বন্ধ নয়। তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে এবং জিততে আগের মতোই প্রস্তুত। ফলে জেসাসের সঙ্গে সংঘাত যতই বাড়ুক, দেশের জার্সিতে রোনাল্ডোর অধ্যায় এখনই শেষ হয়ে গেল—এমন বার্তা দেননি তিনি।
আর এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সময়টাই যেন ঘটনাটিকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে। যে দিনে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ বার মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন, সেই দিনেই রোনাল্ডোর পাল্টা ‘বিদায়’ নয়, বরং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া। মেসির বিদায়ে যখন আবেগ, স্মৃতি আর অশ্রু—তখন রোনাল্ডোর কণ্ঠে রাগ, অভিমান আর ‘কথা রাখার’ হিসাব। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকার শেষ অধ্যায়ও যেন দুই সম্পূর্ণ আলাদা চিত্রনাট্যে লেখা হচ্ছে।