...
...
Next Story

‘বিজেপির লোক বলেই সমালোচনা?’ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে উদারপন্থীদের তুলোধোনা বিজেতা দহিয়ার

ধীরেন্দ্রর পাশে দাঁড়ালেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) থেকে বহিষ্কৃত নেতা বিজেতা দহিয়া। শুধু শাস্ত্রীর হয়ে সওয়াল করাই নয়, তাঁর সমালোচকদেরও তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে নিজেদের উদারপন্থী বা লিবারাল বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের নিশানা করেছেন বিজেতা।

Published on: Nov 5, 2026, 12:16:30 IST
Advertisement

ভগবান রাম ও কৃষ্ণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে একাধিক সাধুসন্ত। এবার সেই বিতর্কে ধীরেন্দ্রর পাশে দাঁড়ালেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) থেকে বহিষ্কৃত নেতা বিজেতা দহিয়া। শুধু শাস্ত্রীর হয়ে সওয়াল করাই নয়, তাঁর সমালোচকদেরও তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে নিজেদের উদারপন্থী বা লিবারাল বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের নিশানা করেছেন বিজেতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বা বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলেই কাউকে পেলেই সমালোচনায় নেমে পড়ছেন তাঁরা। অথচ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে নিজেদের আদর্শের কথাই ভুলে যাচ্ছেন।

‘বিজেপির লোক বলেই সমালোচনা?’ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে উদারপন্থীদের তুলোধোনা বিজেতা দহিয়ার
‘বিজেপির লোক বলেই সমালোচনা?’ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে উদারপন্থীদের তুলোধোনা বিজেতা দহিয়ার

বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন বিজেতা। সেখানে তিনি বলেন, গত দু’দিন ধরে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছিলেন। শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। তাঁর দাবি, ধীরেন্দ্রর সম্পূর্ণ ভিডিয়ো তিনি দেখেছেন। সেখানে ভগবান রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, তাঁদের একজন সোজা, অন্য জনের লীলা বাঁকা। একজন ধনুক চালান, অন্য জন বাঁশি বাজান। বিজেতার ব্যাখ্যা, কোনও ভজনের পরিচয় বা ভূমিকা বোঝানোর সময়ই এই কথাগুলি বলা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও একাংশের মানুষ বিষয়টিকে ভগবানের অপমান বলে প্রচার করছেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

বিজেতার মূল আপত্তি উদারপন্থীদের অবস্থান নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের লিবারাল বলে দাবি করলেও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ক্ষেত্রে তাঁরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, ধীরেন্দ্র বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলেই তাঁকে আক্রমণের লক্ষ্য করা হচ্ছে। অথচ একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দেখে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করা উচিত নয়। বিজেতার প্রশ্ন, এটাই যদি উদারপন্থীদের অবস্থান হয়, তা হলে তাঁদের সঙ্গে রক্ষণশীলদের পার্থক্য কোথায়?

শুধু ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী নয়, পশ্চিমবঙ্গের এক শিল্পীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কথাও তুলে ধরেছেন বিজেতা। তাঁর অভিযোগ, ওই শিল্পীর কাজ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছিল। শিল্পীকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। বিজেতার দাবি, শিল্পীর কাজের প্রকৃত বিষয়বস্তু না বুঝেই একাংশ তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর মতে, শিল্পীর স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতাকে সম্মান করা উচিত। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিশানা করা অনুচিত।

কেন বিতর্কে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী?

সম্প্রতি একটি রামকথার অনুষ্ঠানে ভগবান রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করেছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তাঁর সেই মন্তব্যের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক শুরু হয়। পরে তিনি হাতজোড় করে ক্ষমা চান। তাঁর বক্তব্য, ভক্তির আবেগে কথাগুলি বলেছিলেন। কাউকে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। ধীরেন্দ্রর দেশজুড়ে সমস্ত অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিলের দাবিও তুলেছেন তিনি। অযোধ্যার কয়েক জন সাধুসন্তও তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। আবার কেউ কেউ ধীরেন্দ্রর বক্তব্যকে ভক্তির আবেগের প্রকাশ বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিজেতা দহিয়া আগে CJP-র মুখপাত্র ছিলেন। নীট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ অভিযানের কর্মসূচি ছেড়ে বার্গার খেতে যাওয়ার ঘটনায় ২০ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এবার ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উস্কে দিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks