যন্তর-মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বাহিনীর সদস্যদের পাশে দাঁড়ালেন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কর্তব্য পালনের সময় বাহিনীর সদস্যরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। একই সঙ্গে তিনি জওয়ানদের নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
সোমবার সিআরপিএফের ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে বাহিনীর জওয়ান ও আধিকারিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং বলেন, 'সিআরপিএফের ডিজি হিসেবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা অপারেশনাল ব্যাটালিয়নে থাকুন বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ইউনিটে, দেশের স্বার্থে, জনস্বার্থে এবং বাহিনীর স্বার্থে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমার।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনারা নির্ভয়ে নিজেদের কাজ করে যান। কোথাও যদি জবাবদিহির প্রয়োজন হয়, তাহলে মহাপরিচালক হিসেবে সেই দায়িত্ব আমি নেব।' তাঁর এই বক্তব্যকে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, সিআরপিএফ সদর দফতর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত নিজেদের ইউনিটগুলিকে বার্তা পাঠিয়ে সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের সময় জওয়ানদের ধৈর্য ও সংযমের প্রশংসা করেছে। তবে একই সঙ্গে বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি করেন বা আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কড়া শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সিআরপিএফের বিশেষ ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর ভূমিকা তদন্তের মুখে। গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় দিল্লির যন্তর-মন্তর এবং সংসদ চত্বর সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আরএএফ কীভাবে বলপ্রয়োগ করেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, বর্তমানে সিআরপিএফের বিশেষ ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর ভূমিকা তদন্তের মুখে। গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় দিল্লির যন্তর-মন্তর এবং সংসদ চত্বর সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আরএএফ কীভাবে বলপ্রয়োগ করেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
{{/usCountry}}ওই দিন নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সেই ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আবার পেলেট গান ব্যবহারেরও অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যরা এক ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অন্তত দুই রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট নিক্ষেপ করেছিলেন। যদিও ঘটনার পর প্রথমদিকে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় সিআরপিএফ নিজস্ব তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্ত এখনও চলছে। এই পরিস্থিতিতে সিআরপিএফ প্রধানের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর বার্তা একদিকে যেমন বাহিনীর সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা, তেমনই অন্যদিকে তদন্ত চলাকালীন বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছে। এখন নজর, তদন্তে কী উঠে আসে এবং যন্তর-মন্তরের ঘটনায় আরএএফের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়।