...
...
Next Story

ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ! US-কানাডার বিমানবন্দরে সাইবার হানা, উঠল 'ফ্রি প্যালেস্তাইন' স্লোগান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় হ্যারিসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাবলিক অ্যাড্রেস (পিএ) সিস্টেম হ্যাক হয়। একই দিনে কানাডার তিনটি বিমানবন্দরে অনুরূপ হ্যাকিং হামলার ঘটনা ঘটেছে।

Published on: Oct 17, 2025, 17:07:44 IST
Advertisement

ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে শান্তিচুক্তির পর নতুন করে চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চারটি বিমানবন্দরের পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম হ্যাক করার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রায় মিনিট দশেকের জন্য বিজ্ঞাপনের ডিসপ্লে বোর্ড সম্পূর্ণ হ্যাকারদের দখলে চলে যায়। বিমানবন্দরের স্ক্রিনে ফুটে ওঠে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কুমন্তব্য। একই সঙ্গে 'হামাস জিন্দাবাদ' এবং 'ফ্রি প্যালেস্তাইন' লেখা বার্তাও দেখা যায়।

US-কানাডার বিমানবন্দরে সাইবার হানা (সৌজন্যে টুইটার)
US-কানাডার বিমানবন্দরে সাইবার হানা (সৌজন্যে টুইটার)

জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় হ্যারিসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাবলিক অ্যাড্রেস (পিএ) সিস্টেম হ্যাক হয়। একই দিনে কানাডার তিনটি বিমানবন্দরে অনুরূপ হ্যাকিং হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে কানাডার কেলোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আচমকাই বিজ্ঞাপনের ডিসপ্লে বোর্ডে ফুটে ওঠে ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ স্লোগান। যার জেরে মুহূর্তের মধ্যে যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই রকম ঘটনা ঘটে। বিজাতীয় ভাষায় গান বেজে ওঠে। সঙ্গে একই ভাবে ডিসপ্লে বোর্ডে ফুটে ওঠে ফ্রি প্যালেস্তাইন স্লোগান। ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হ্যাকাররা বিদেশি ভাষায় বার্তা দিচ্ছিল। স্বল্প সময়ের জন্য সিস্টেম হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। পরে তা পুনরুদ্ধারও করা হয়। উইন্ডসর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমের পাশাপাশি ফ্লাইট ইনফর্মেশন ডিসপ্লে বোর্ডও হ্যাক হয়ে যায়। সেখানে লেখা হয়, ‘যুদ্ধে হামাস জিতেছে। ইজরায়েল হেরে গিয়েছে।’ সঙ্গে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকেও কুমন্তব্য করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোনও তথ্য চুরি হয়নি। পরিকাঠামো ক্ষতিরও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রান্সপোর্ট কানাডা জানিয়েছে, এটি সম্ভবত একটি সমন্বিত বহুজাতিক সাইবার হামলা। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার হ্যারিসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পকে কুমন্তব্য করেন হ্যাকাররা। ডিসপ্লে বোর্ডে লেখা হয়, ‘নেতানিয়াহু নিপাত যাক। ধ্বংস হোক ডোনাল্ড ট্রাম্প।’ একই সঙ্গে এখানেও ফ্রি প্যালেস্তাইন স্লোগান দেন হ্যাকাররা। হ্যারিসবার্গ বিমানবন্দরের মুখপাত্র স্কট মিলার বলেন, 'নিরাপত্তাজনিত কারণে সঙ্গে সঙ্গে পুরো সিস্টেম আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।' ঘটনাটির তদন্তে এফবিআই (এফবিআই) ও ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হ্যাকাররা বিমানবন্দরের যোগাযোগ অবকাঠামোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছে। এই সাইবার হামলাটি দেশীয় না আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ দ্বারা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে, তুর্কির সাইবার ইসলাম নামে নামে একটি দল।

আরও পড়ুন-‘বাংলায় SIR হবেই!’ভোটের দামামা-এ হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, অবস্থান স্পষ্ট করলেন শাহ

এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষত এমন সময়ে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তির অল্পদিনের মধ্যেই এই সাইবার আক্রমণ ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামাসকে। তিনি বলেছেন, হামাস সদস্যরা যদি গাজা উপত্যকায় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে সেখানে তাঁদের শক্তভাবে মোকাবিলা করা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন উপায় থাকবে না। ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, 'হামাস যদি হিংসার পথ না ছাড়ে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe